
পলাশ চন্দ্র দাস : আনন্দ-উৎসব আর বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে বরিশাল নগরীতে হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব শ্রীকৃষ্ণ জন্মাষ্টমী উদযাপিত হয়েছে। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় নগরীর লাইন রোডের মুখে আনুষ্ঠানিকভাবে এ উৎসবের উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট দানবীর শ্রী বিজয় কৃষ্ণ দে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে শুরু হয় আয়োজন। পরে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ধর্মরক্ষিনী সভার সভাপতি শ্রী রাখাল চন্দ দে। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার শফিকুল ইসলাম।
আলোচনা সভা শেষে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় নগরীর লাইন রোড থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। হিন্দু সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ ভক্তবৃন্দ নানা সাজে শোভাযাত্রায় অংশ নেন। এ সময় ভক্তরা জানান, পৃথিবীতে অনাচার বেড়ে গেলে মহামানবের আবির্ভাব ঘটে, মানুষের কল্যাণের জন্যই তার আগমন।
শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে নগরীতে বাড়ানো হয় নিরাপত্তা। অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনা সদস্য মোতায়েন করা হয়।
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস—আজ থেকে প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে দ্বাপর যুগে নিরাকার ব্রহ্ম বাসুদেব ও দেবকীর ঘরে জন্ম নিয়েছিলেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ। দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালনই ছিল তাঁর আবির্ভাবের উদ্দেশ্য। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করেন, যুগে যুগে অশুভ শক্তির বিনাশ ও শুভ শক্তির প্রতিষ্ঠার জন্যই ভগবান পৃথিবীতে আবির্ভূত হন।
ধর্মীয় এ বিশ্বাস থেকেই প্রতিবছর বিশেষ মর্যাদায় পালন করা হয় জন্মাষ্টমী। উপাসনা, শোভাযাত্রা ও নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ভক্তরা স্মরণ ও শ্রদ্ধা জানান ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে।