নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: বরিশাল নগরীর ফজলুল হক এভিনিউ, বরিশাল এলাকায় অবস্থিত চারতলা নগর ভবনটি এখন মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ভবনের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে, আর ছাদ থেকে খসে পড়ছে পলেস্তারা।
সর্বশেষ মঙ্গলবার দুপুরে ভবনের তৃতীয় তলায় তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আব্দুল মোতালেবের কক্ষের ছাদ থেকে পলেস্তারার একটি বড় অংশ খসে পড়ে। সে সময় কক্ষে কেউ না থাকায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয় বলে বরিশাল সিটি করপোরেশন-এর জনসংযোগ দপ্তর জানিয়েছে।
⚠️ ধারণক্ষমতার বাইরে চাপ
আশি-নব্বইয়ের দশকের নকশায় নির্মিত এই ভবনটি বর্তমানে ধারণক্ষমতার অনেক বেশি চাপ বহন করছে।
প্রথমে ৪৬ শতাংশ জমির ওপর ৩৫ কক্ষবিশিষ্ট দোতলা ভবন হিসেবে নির্মাণ শুরু হলেও ২০০২ সালে সিটি করপোরেশনে উন্নীত হওয়ার পর নকশা বহির্ভূতভাবে একে তিন তলায় রূপান্তর করা হয়।
বর্তমানে ভবনটিতে কক্ষ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭০টি। যেখানে মূলত সাড়ে ৪শ জনবল ধারণের জন্য নির্মিত ছিল, সেখানে এখন প্রায় ১ হাজার ৬শ কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ করছেন। প্রতিদিন গড়ে সাড়ে ৪ হাজার মানুষ এ ভবনে আসা-যাওয়া করেন।
🔥 অতিরিক্ত চাপের নতুন কারণ
গত ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর সিটি করপোরেশনের অ্যানেক্স ভবনটি আগুনে পুড়ে যাওয়ায় সেখানকার চারটি বিভাগের কার্যক্রমও এখন মূল ভবনে স্থানান্তর করা হয়েছে। এতে করে ভবনের ওপর চাপ আরও বেড়েছে।
🧱 প্রকৌশলীদের উদ্বেগ
বরিশাল সিটি করপোরেশন-এর নির্বাহী প্রকৌশলী (সিভিল) আবুল বাসার জানান, ভবনটির মূল কাঠামোগত নকশা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না এবং কলামগুলোতে যে ফাটল দেখা দিয়েছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
🏗️ বারবার পরিকল্পনা, নেই বাস্তবায়ন
নগর ভবনটি সংস্কার বা নতুন করে নির্মাণের উদ্যোগ বিভিন্ন সময়ে নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি। সাবেক মেয়র শওকত হোসেন হিরণ প্রথম স্থানান্তরের উদ্যোগ নিলেও তা শেষ পর্যন্ত এগোয়নি।
পরবর্তী মেয়ররাও নানা পরিকল্পনার কথা বললেও বাস্তব কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
🏢 নতুন ভবনের পরিকল্পনা
বর্তমান প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন জানান, নথুল্লাবাদ এলাকায় ১৫ তলা বিশিষ্ট নতুন নগর ভবন নির্মাণের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবটি বর্তমানে পরিকল্পনা কমিশনে রয়েছে এবং অনুমোদন পেলে স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
⚡ চরম ঝুঁকিতে সেবা কার্যক্রম
৩০টি ওয়ার্ডের প্রায় ৫ লাখ মানুষের সেবার কেন্দ্র এই নগর ভবনটি এখন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারী থেকে শুরু করে সাধারণ সেবাগ্রহীতারা প্রতিনিয়ত আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
https://slotbet.online/