নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: সমন্বিত পরিকল্পনার অভাব এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে অদূরদর্শিতার কারণে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বরিশাল শিশু হাসপাতাল প্রকল্প। প্রায় ৯ বছর আগে নির্মাণকাজ শুরু হলেও এখনো চালু হয়নি ২০০ শয্যার বিশেষায়িত এই হাসপাতাল। ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হলেও চিকিৎসা সরঞ্জাম, জনবল ও মৌলিক সেবার অভাবে হাসপাতালটি এখনো কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি।
দক্ষিণাঞ্চলের শিশুদের উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ২০১৭ সালে বরিশাল নগরীর আমানতগঞ্জ এলাকায় হাসপাতালটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। তিন দফায় এ প্রকল্পে মোট ২৬ কোটি ১৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও হাসপাতালটি এখনো আলোর মুখ দেখেনি।
প্রথম দফায় ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় হাসপাতালের চারতলা মূল ভবন। দ্বিতীয় দফায় প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে লিফট স্থাপন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, সীমানা প্রাচীর ও অভ্যন্তরীণ সড়ক নির্মাণ করা হয়। এরপরও ২০২৬ সালে এসে হাসপাতালটিতে নিশ্চিত হয়নি বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ।
এ সংকট সমাধানে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তৃতীয় দফায় আরও ৪ কোটি ৬৬ লাখ টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
তবে হাসপাতাল চালুর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় চিকিৎসা সরঞ্জাম সংগ্রহের কাজই এখনো শুরু হয়নি। অপারেশন থিয়েটার (ওটি), আইসিইউ ও সিসিইউর জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি এখনো হাসপাতালে পৌঁছেনি। রোগীদের জন্য শয্যা, চিকিৎসক ও নার্সদের বসার আসবাবপত্র পর্যন্ত নেই।
এ কারণে স্বাস্থ্য বিভাগ এখনো হাসপাতাল ভবনটি গণপূর্ত বিভাগের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝে নেয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে ভবনটি কার্যত অচল অবস্থায় পড়ে আছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, হাসপাতাল পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল কাঠামো বা অর্গানোগ্রাম এখনো চূড়ান্ত হয়নি। জনবল নিয়োগের আগে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনসহ দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। কবে নাগাদ সেই প্রক্রিয়া শেষ হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছেন না কেউই।
নগরীর কাউনিয়া এলাকার বাসিন্দা তরিকুল ইসলাম ইয়াদ বলেন, “সমন্বিত পরিকল্পনার অভাবেই আজ হাসপাতালটি চালুর পথে স্থবির হয়ে আছে। ভবন তৈরি করেই থেমে গেলে হবে না, দ্রুত চিকিৎসাসেবা চালু করতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।”
বরিশাল জেলা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল আলম বলেন, “নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সাবস্টেশন ও জেনারেটর স্থাপনের জন্য বাজেট পাওয়া গেছে। দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে, দ্রুতই এসব কাজ সম্পন্ন হবে।”
অন্যদিকে বরিশাল স্বাস্থ্য বিভাগের উপ-পরিচালক ডা. লোকমান হাকিম বলেন, “হাসপাতালের অনেক কাজ এখনো অসম্পূর্ণ রয়েছে। প্রয়োজনীয় আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম ছাড়া স্বাস্থ্য বিভাগ এটি বুঝে নিতে পারছে না। ধাপে ধাপে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।”
দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের প্রত্যাশা, দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে দ্রুত বরিশাল শিশু হাসপাতাল চালু করা হবে। কারণ উন্নত শিশু চিকিৎসার জন্য এখনও এই অঞ্চলের হাজারো পরিবারকে ঢাকামুখী হতে হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া না হলে কোটি কোটি টাকার এই প্রকল্প দীর্ঘমেয়াদে অকার্যকর হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
হেড অফিস: ৩৯ দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা।
মোবাইল : ০১৭৪২-২৮০৪৯৮, মেইল: dailybarishalsangbad@gmail.com
© 2026 বরিশাল সংবাদ | Barisal Sangbad