মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের সামনে মহাসড়ক অবরোধ করলে প্রায় ১০ কিলোমিটারজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে দূরপাল্লার যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, টানা বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেও এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বেশ কয়েকটি বিষয়ের পরীক্ষার মধ্যে পর্যাপ্ত বিরতি না থাকা এবং প্রশ্নপত্রের মান নিয়ে অসন্তোষ থেকে তারা আন্দোলনে নেমেছেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘ আট বছর পর পূর্ণ সিলেবাসে পরীক্ষা হলেও প্রশ্নপত্র অনেক ক্ষেত্রে অযৌক্তিকভাবে কঠিন হয়েছে। পদার্থবিজ্ঞান প্রথমপত্র, হিসাববিজ্ঞান ও যুক্তিবিদ্যার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের পরীক্ষার মাঝে মাত্র এক দিনের বিরতি দেওয়া হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত মানসিক ও শারীরিক চাপ সৃষ্টি করেছে।
আন্দোলনে অংশ নেওয়া সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের শিক্ষার্থী আলিফ বলেন, “বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। অনেক কেন্দ্রে জলাবদ্ধতা ছিল। তারপরও পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়া হয়েছে। প্রশ্নপত্রও আগের তুলনায় কঠিন হয়েছে।”
সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের শিক্ষার্থী এনামুল বলেন, “আমরা যদি দেশের ভবিষ্যৎ হই, তাহলে আমাদের ‘ব্রয়লার মুরগি’ বলা হয় কীভাবে? শিক্ষামন্ত্রীকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে, না হলে পদত্যাগ করতে হবে।”
আন্দোলনকারীরা ছয় দফা দাবি ঘোষণা করেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—যৌক্তিক কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের পুনরায় পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষার সুযোগ, ফল প্রকাশের পর অকৃতকার্যদের দ্রুত পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা, প্রশ্নপত্রের ভুল সংশোধন, দুর্যোগপূর্ণ এলাকায় পরীক্ষা স্থগিত রাখা এবং শিক্ষার্থীদের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রীর জবাবদিহি নিশ্চিত করা।
এদিকে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান নেন।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “কিছু শিক্ষার্থী তাদের দাবি নিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করেছে। তাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।”
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে দুপুরজুড়ে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
হেড অফিস: ৩৯ দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা।
মোবাইল : ০১৭৪২-২৮০৪৯৮, মেইল: dailybarishalsangbad@gmail.com
© 2026 বরিশাল সংবাদ | Barisal Sangbad