বরিশালের নবনিযুক্ত সিভিল সার্জন ডা. মো. মনিরুজ্জামানের অপসারণের দাবিতে টানা পঞ্চম দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের জুলাই যোদ্ধারা। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে বরিশাল জেলা প্রশাসক (ডিসি) কার্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে সিভিল সার্জনের অপসারণ এবং নতুন নিয়োগের দাবি জানান।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ডা. মনিরুজ্জামান অতীতে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাদের দাবি, এমন একজন কর্মকর্তাকে বরিশালের মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলার সিভিল সার্জনের দায়িত্ব দেওয়ায় জেলার স্বাস্থ্যখাতের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই তাকে অপসারণ করে একজন সৎ, দক্ষ ও গ্রহণযোগ্য কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
এর আগে আন্দোলনের চতুর্থ দিনে (২৯ জুলাই) বরিশাল জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সামনে সংবাদ সম্মেলন করে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন আন্দোলনের সমন্বয়কারীরা। সেখানে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক সাব্বির হোসেন অভিযোগ করেন, ডা. মনিরুজ্জামান গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত থাকাকালে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল।
তিনি আরও দাবি করেন, গৌরনদী ছাড়াও আগৈলঝাড়াসহ আশপাশের এলাকাতেও এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয়রা ঝাড়ু মিছিল, মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পরবর্তীতে তাকে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করা হয়েছিল।
আল্টিমেটামের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। আন্দোলনকারীরা জানান, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে এবং প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
আন্দোলনের আরেক সমন্বয়ক লাবণ্য রহমান বলেন, “এটি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে নয়; বরিশালের মানুষের নিরাপদ ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার দাবিতে আমাদের এই আন্দোলন। জনগণের স্বার্থে আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি।”
তবে টানা পাঁচ দিন কর্মসূচি চললেও অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা তুলনামূলক কম ছিল। আন্দোলনকারীদের তথ্যমতে, ২৯ জুলাইয়ের কর্মসূচিতে প্রায় ১৫ জন অংশ নিলেও বৃহস্পতিবার সেই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ১৭ জনে পৌঁছায়। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ মনে করছেন, আন্দোলনটি এখনো প্রত্যাশিত জনসম্পৃক্ততা অর্জন করতে পারেনি। অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের দাবি, অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা নয়, বরং দাবির যৌক্তিকতা ও জনস্বার্থই তাদের আন্দোলনের মূল ভিত্তি।
এদিকে, পঞ্চম দিনের কর্মসূচিতেও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য কোনো বিঘ্ন ঘটেনি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পুরো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়।
উল্লেখ্য, আন্দোলনকারীরা যেসব অভিযোগ তুলেছেন, সেগুলোর বিষয়ে ডা. মো. মনিরুজ্জামান বা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।
https://slotbet.online/