পিরোজপুরে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। বরিশাল বিভাগের মধ্যে বর্তমানে ডেঙ্গু আক্রান্তের দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে পিরোজপুর জেলা। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চলতি মৌসুমে জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪১৭ জনে। এদিকে চলতি মাসে ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে জেলার বিভিন্ন হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন ৪১৭ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩৭৫ জন। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৪১ জন রোগী।
গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হওয়া ২০ জনের মধ্যে ১২ জন পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে, ৫ জন ভাণ্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং ৩ জন নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে জেলা হাসপাতালে ২২ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চলতি বছরে জেলা হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৬৯ জন রোগী।
ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ায় জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। হাসপাতালের সীমিত জায়গার কারণে ডেঙ্গু রোগী ও অন্যান্য রোগীদের একই ওয়ার্ডে বা কাছাকাছি রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা। সাধারণ রোগী ও তাঁদের স্বজনরা ডেঙ্গু রোগীদের জন্য পৃথক ওয়ার্ডের দাবি জানিয়েছেন।
ডেঙ্গু আক্রান্ত রফিক শেখ বলেন, “চিকিৎসার মান ভালো, তবে জায়গার সংকট রয়েছে। নতুন হাসপাতাল চালু হলে রোগীদের ভোগান্তি অনেক কমবে।”
আরেক রোগী বলেন, “ডেঙ্গু রোগী ও সাধারণ রোগী একসঙ্গে থাকায় ভয় লাগে। ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা করা উচিত।”
রোগীর স্বজন কায়সার আহমেদ বলেন, “ডেঙ্গু রোগীদের আলাদা রাখা হলে রোগী ও স্বজন—উভয়ের জন্যই নিরাপদ হবে।”
ঢাকা থেকে আক্রান্ত হয়ে পিরোজপুরে চিকিৎসা নিতে আসা শাহরিয়ার বলেন, “জ্বর নিয়ে ঢাকা থেকে এসে পরীক্ষা করালে ডেঙ্গু ধরা পড়ে। এখন আগের চেয়ে অনেকটা সুস্থ আছি।”
পিরোজপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. মতিউর রহমান বলেন, “জেলা হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ডেঙ্গু রোগীদের নিয়মিত চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে ৪১ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। আক্রান্তদের একটি বড় অংশ ঢাকা থেকে সংক্রমিত হয়ে নিজ জেলায় ফিরে চিকিৎসা নিচ্ছেন।”
তিনি আরও বলেন, “ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যশিক্ষা কার্যক্রম, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা এবং জমে থাকা পানি অপসারণে নিয়মিত কাজ করা হচ্ছে।”
স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানি অপসারণ, মশার বংশবিস্তার রোধ এবং জ্বর দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বাড়তে পারে বলে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
হেড অফিস: ৩৯ দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা।
মোবাইল : ০১৭৪২-২৮০৪৯৮, মেইল: dailybarishalsangbad@gmail.com
© 2026 বরিশাল সংবাদ | Barisal Sangbad