
জানা যায়, বরিশাল নগরীর কাশীপুর চৌমাথা এলাকায় ফুটপাতে চিতই পিঠা বিক্রি করেন তন্নী আক্তার। প্রতিদিন তার আয় মাত্র সাতশ থেকে আটশ টাকা। সেই তন্নীকেই আয়কর রিটার্ন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে কর অঞ্চল বরিশাল।
গত ১০ ডিসেম্বর দেওয়া নোটিশে ২২ দিনের মধ্যে কর অফিসে যোগাযোগ করতে বলা হয়। নোটিশে কর ও দণ্ড আরোপের সতর্কতাও রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কাশীপুর চৌমাথা বাজারে একটি ওষুধের দোকানের সামনে বসে পিঠা বিক্রি করেন তন্নী ও তার মা। মা বিক্রি করেন ভাপা পিঠা, আর তন্নী চিতই পিঠা। তন্নীর স্বামী সুমন হাওলাদার একই বাজারে ভ্যানগাড়িতে স্বল্পমূল্যের পোশাক বিক্রি করেন। বাজারের পাশেই ঝুপড়ি ঘরে তাদের বসবাস।
তন্নী ও তার পরিবারের অভিযোগ—জমি সংক্রান্ত মামলার কাগজে দেওয়া এনআইডি কপি ব্যবহার করে কেউ তার নামে ই-টি খুলে থাকতে পারে।
কর কী—সেটাই জানেন না বলে জানান এই পিঠা বিক্রেতা তন্নী।
দরিদ্র পিঠা বিক্রেতাকে আয়কর রিটার্ন দাখিলের নোটিশ দেওয়ার ঘটনায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। দিন আনে দিন খাওয়া এই পরিবারের আয়কর দেয়ার কোনো সক্ষমতা নেই জানিয়ে স্থানীয়রা বলেন।
অপরদিকে, নোটিশদাতা সহকারী কর কমিশনার সালমা জাহান আঁখি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন—তন্নীর জাতীয় পরিচয়পত্রে ই-টিআইএন থাকায় নিয়ম অনুযায়ী নোটিশ দেওয়া হয়েছে। প্রমাণ দিলে ই-টিআইএন বাতিলের সুযোগ রয়েছে।