বরিশাল নগরীর ঐতিহ্যবাহী বেলস পার্ক ও বিবির পুকুরপাড় আবারও ফিরে পেয়েছে তাদের চিরচেনা রূপ। দীর্ঘদিন ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের দখলে থাকায় এই দুটি ঐতিহাসিক ও বিনোদনকেন্দ্রিক স্থান তাদের স্বকীয়তা হারিয়ে ফেলেছিল। অবশেষে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার ফলে সেসব দখলদারিত্বের অবসান ঘটেছে।
ঐতিহাসিক বেলস পার্ক নির্মিত হয়েছিল ব্রিটিশ আমলে শাসক বিটসন বেলসের শাসনামলে, রাজা পঞ্চম জর্জের আগমনকে কেন্দ্র করে। বরিশাল শহরের উন্নয়ন ও ইতিহাসে এই পার্কের রয়েছে বিশেষ গুরুত্ব। কিন্তু বছরের পর বছর ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের দখল ও অযত্ন-অবহেলায় পার্কটি তার সৌন্দর্য হারাতে বসেছিল। সাধারণ পথচারী ও শরীরচর্চাকারীদের চলাচলও ছিল কষ্টকর।
সাম্প্রতিক সময়ে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনার রায়হান কায়সারের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে বেলস পার্ক থেকে ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করা হয়। ফলে পার্কটি ফিরে পেয়েছে তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। পরিচ্ছন্ন পরিবেশে এখন অবাধে হাঁটাচলা ও শরীরচর্চা করছেন নগরবাসী।
একইভাবে নগরীর প্রাণকেন্দ্র বিবির পুকুরপাড়ও দীর্ঘদিন ধরে ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের দখলে ছিল। সম্প্রতি এটিকেও উচ্ছেদ করে সিটি কর্পোরেশন। ফলে জলাশয়ের চারপাশে এখন শান্ত ও সুন্দর পরিবেশ বিরাজ করছে।
এছাড়াও নগরীর চৌমাথা লেকসহ বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে দখলকৃত জায়গা থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে দখলদারদের। এতে খুশি হয়েছেন নগরবাসী।
শাহেদ নামের এক তরুণ জানান, “অনেক বছর পর মনে হচ্ছে সত্যিকারের বেলস পার্কে এসেছি। আগে ব্যবসায়ীদের দখল এত বেশি ছিল যে, এখানে দাঁড়িয়েও শান্তি পাওয়া যেত না। এখন পরিবেশ সুন্দর হয়েছে।”
শরীরচর্চার জন্য প্রতিদিন সকালে পার্কে আসেন রোকেয়া বেগম। তিনি বলেন, “ভ্রাম্যমাণ দোকান আর ভ্যানগাড়ির কারণে হাঁটার জায়গাই ছিল না। এখন মুক্ত বাতাসে হাঁটা যায়, এটা আমাদের জন্য বড় আনন্দ।”
নগরীর প্রবীণ বাসিন্দা নুরুল ইসলাম বলেন, “বিবির পুকুরপাড় তো আমাদের শৈশব-যৌবনের স্মৃতির জায়গা। অনেক দিন পর দেখে মনে হচ্ছে পুরনো সেই সৌন্দর্য আবার ফিরে এসেছে। সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসককে নগরীর একজন পুরাতন বাসিন্দা হিসেবে এজন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।”
নগরবাসীর প্রত্যাশা—এই উদ্যোগ যেন সাময়িক না হয়ে স্থায়ী রূপ পায়। তারা চান, পুনরায় যেন কেউ এসব স্থানে অবৈধভাবে দখল করে স্থাপনা গড়ে তুলতে না পারে।
রিয়াজ উদ্দিন নামের এক পথচারী বলেন, “এটা যদি সাময়িক হয় তবে আবার আগের মতো হয়ে যাবে। তাই আমরা চাই, উচ্ছেদ হওয়া জায়গাগুলো যেন স্থায়ীভাবে সংরক্ষিত হয়, এজন্য সিটি কর্পোরশনের দৃষ্টি আকর্ষন করছি।”