সুমন, বরিশাল প্রতিনিধি: বরিশাল নগরীর ভাটিখানা এলাকার রোকেয়া আজিম সড়কে কিছুতেই থামছে না মাদকের বিস্তার। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক কেনাবেচা চললেও কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে আসছে না পরিস্থিতি। মাদকের সহজলভ্যতায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়ছে উঠতি বয়সী তরুণ ও কিশোররা। এতে তাদের একটি অংশ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিসিসির ৪নং ওয়ার্ড রোকেয়া আজিম সড়কে যুবক মাঠের ভিতরে দীর্ঘদিন ধরে মাদক কেনাবেচার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান ও আটকের পর সাময়িকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও কিছুদিন পর আবারও সক্রিয় হয়ে ওঠে মাদক কারবারিরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই এলাকায় রাকিব ওরফে চোতা রাকিব নামে এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। এলাকাবাসীর দাবি, তার বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে মাদকসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আটকের পর জামিনে বের হয়ে পুনরায় মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, মাদকের বিস্তার এখন শুধু মাদকসেবনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; এর প্রভাব পড়ছে পুরো এলাকার সামাজিক পরিবেশে। বিশেষ করে কিশোর ও তরুণদের একটি অংশ মাদকের সংস্পর্শে এসে অপরাধপ্রবণ হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ তাদের। মাদককে কেন্দ্র করে কিশোরদের সংঘবদ্ধ হওয়ার প্রবণতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
এদিকে মাদকবিরোধী অভিযানে কোনো ধরনের শিথিলতা নেই বলে জানিয়েছেন কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সনজিত চন্দ্র নাথ।
তিনি বলেন, “বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের মাদকবিরোধী ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে আমরা কাজ করছি। মাদকসংক্রান্ত কোনো তথ্য পাওয়া মাত্রই তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি আমাদের নিয়মিত অভিযানও অব্যাহত রয়েছে।”
ওসি আরও বলেন, “মাদকের বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় নেই। মাদক ব্যবসা ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে কাউনিয়া থানা পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।”
অন্যদিকে এলাকাবাসীর দাবি, মাদক নির্মূলে শুধু বিচ্ছিন্ন অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না। চিহ্নিত মাদক কারবারিদের ওপর নিয়মিত নজরদারি, মাদকের সরবরাহের উৎস শনাক্ত এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
তাদের প্রত্যাশা, রোকেয়া আজিম সড়ক ও আশপাশের এলাকায় মাদকের বিস্তার বন্ধে প্রশাসন আরও কার্যকর ও স্থায়ী পদক্ষেপ নেবে। একই সঙ্গে মাদকের কারণে যাতে নতুন করে কোনো কিশোর বা তরুণ অপরাধের পথে না জড়ায়, সেদিকেও সংশ্লিষ্টদের নজর দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
https://slotbet.online/