ছাব্বির, বরিশাল প্রতিনিধি: বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় মোমেনা বেগম (২৪) নামে এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, মোমেনাকে হত্যা করে মরদেহ জানালার গ্রিলের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তবে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
সোমবার (১০ আগস্ট) গভীর রাত ৩টার দিকে গৌরনদী পৌরসভার টরকী বন্দর এলাকার ছাগলহাটা থেকে মোমেনার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মঙ্গলবার দুপুরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহত মোমেনা ময়মনসিংহের নান্দাইল পৌরসভার কানারামপুর গ্রামের মো. আব্দুল্লাহ মিয়ার মেয়ে। তিনি দীর্ঘদিন দুবাইয়ে বসবাস করতেন। সেখানে মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার রমজানপুর গ্রামের সোহাগ রাঢ়ীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে প্রায় তিন বছর আগে দুবাইয়ে তাদের বিয়ে হয়। সম্প্রতি তিনি দেশে ফেরেন।
মোমেনার ছোট বোন দিনা বেগমের দাবি, তার বোন প্রায় আড়াই মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। প্রায় ১৫ দিন আগে স্বামী সোহাগ তাকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেন। এরপর থেকে তিনি টরকী বন্দরের ছাগলহাটা এলাকায় মন্টু সরদারের ভাড়া বাসায় শাশুড়ি, দেবর ও জায়ের সঙ্গে থাকতেন।
দিনা বেগম অভিযোগ করেন, দেশে ফেরার পর থেকেই তার স্বামী মোবাইল ফোনে মোমেনাকে তালাক দেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছিলেন। সোমবার বিকেলে জরুরি প্রয়োজনে তিনি বাসার বাইরে যান। রাতে ফিরে এসে মোমেনার কক্ষের দরজা বন্ধ দেখতে পান।
স্থানীয় বাসিন্দা জিয়াউর রহমান জানান, রাত ১২টার দিকে বিদেশ থেকে সোহাগ তাকে ফোন করে মোমেনার কক্ষের দরজা বন্ধ থাকার বিষয়টি জানান। পরে তিনি আরেকজনকে সঙ্গে নিয়ে ওই বাসায় গিয়ে দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান।
পরে মোমেনার দেবর রাহাত রাঢ়ী (১৭) ও তার মায়ের সহযোগিতায় দরজা ভাঙা হয়। ঘরে প্রবেশ করে জানালার গ্রিলের সঙ্গে মোমেনাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তারা। জিয়াউর রহমানের দাবি, ওই সময় মোমেনার দুই পা হাঁটু পর্যন্ত মেঝেতে ছিল।
পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহতের বাবা মো. আব্দুল্লাহ মিয়া অভিযোগ করেন, তার মেয়ে আত্মহত্যা করেননি। তাকে হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো হত্যার অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি।
গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তারিক হাসান রাসেল বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। ঘটনাটি পুলিশ গভীরভাবে তদন্ত করছে।
তিনি আরও জানান, নিহতের শাশুড়ি ও দেবরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে সেটিও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
https://slotbet.online/