দুই দশক পেরিয়ে গেলেও বরিশাল সিটি করপোরেশন আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে পারেনি। ৫৮ বর্গকিলোমিটার আয়তনের মহানগরীতে গত দুই দশকে জনসংখ্যা কয়েকগুণ বেড়েছে, কিন্তু বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চিত্র রয়ে গেছে আগের মতোই।
নগরে দৈনিক উৎপন্ন ২০০ টন বর্জ্য
বর্তমানে ৩০টি ওয়ার্ডে প্রতিদিন উৎপন্ন প্রায় ২০০ টন বর্জ্য ফেলা হচ্ছে ৩নং ওয়ার্ডের পুরানপাড়া এলাকার উন্মুক্ত ভাগাড়ে। নগরবাসীর জন্য এটি মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করেছে। গোটা বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার ২৬টি পৌরসভাতেও আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নেই।
বাস্তবতার সাক্ষী নগরবাসী
পুরানপাড়া এলাকায় সাত সদস্যের পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন হামিদা বেগম। তার পরিবারে চার শিশু ও দুই প্রাপ্তবয়স্ক সদস্য হাঁপানি ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত। ডায়রিয়ার মতো রোগও নিত্যসঙ্গী।
“১০ বছর আগে কম দামে জমি কিনে এখানে বাড়ি করেছি। বছর ঘুরতে না ঘুরতেই পরিবারের সবাই শ্বাসকষ্টে ভুগতে শুরু করে। বাড়ি বিক্রি করতে চাইলেও কিনতে কেউ চায় না, তাই বাধ্য হয়েই থাকতে হচ্ছে।” — হামিদা বেগম
আরেক বাসিন্দা লিপি আক্তার জানান, ‘ভাগাড় সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন করেছি, লিখিত আবেদনও দিয়েছি, কিন্তু কোনো ফল হয়নি।’
ঝালকাঠি পৌরসভায়ও একই অবস্থা
দেড় যুগ আগে প্রথম শ্রেণির মর্যাদা পাওয়া ঝালকাঠি পৌরসভাতেও ডাম্পিং স্টেশন নেই। পৌর কর্তৃপক্ষ সুগন্ধা ও বাসণ্ডা নদীকে ময়লার ভাগাড় হিসেবে ব্যবহার করছে, ফলে নদীর পানি দূষিত হচ্ছে এবং রোগজীবাণু ছড়াচ্ছে।
“নদীতে ফেলা প্লাস্টিক ও অন্যান্য আবর্জনা মাছ খেয়ে ফেলে, সেই মাছের মাধ্যমে বিষক্রিয়া মানুষের শরীরে প্রবেশ করছে। আগের মতো সুগন্ধার মাছের স্বাদও এখন আর নেই।” — উন্নয়নকর্মী মাহাবুব হোসেন সৈকত
প্রশাসনের প্রতিশ্রুতি
ঝালকাঠি পৌর প্রশাসক মো. কাওছার হোসেন জানান, ডাম্পিং স্টেশনের জন্য জমি নির্ধারণ করা হয়েছে। খুব শিগগিরই একটি আধুনিক ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণ করা হবে। বরিশাল সিটি করপোরেশনের সচিব রুপ্পা সিকদার বলেন, নতুন ডাম্পিং স্টেশন তৈরির জন্য উপযুক্ত স্থান খোঁজা হচ্ছে এবং বর্তমান ভাগাড় থেকে বর্জ্য বাইরে ছড়িয়ে না পড়ার জন্য দেয়াল নির্মাণ ও আশপাশের সড়ক সংস্কারের কাজ চলছে।
সারসংক্ষেপ
বরিশালে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাব নগরবাসীর জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করেছে। প্রশাসনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণ ও স্থাপত্য উন্নয়ন কাজ খুব শিগ্রই শুরু হবে।







