পুলিশের গাড়ি চাপায় মো. হাছান হাওলাদার নামে এক অটোচালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ গায়েব করার অভিযোগ উঠছে বিমানবন্দর থানা পুলিশের বিরুদ্ধে। ঘটনার দু’দিন পরে দায়সারা মামলা নিয়েছে পুলিশ। ১ নভেম্বর দুপুর আড়াইটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত হাছান হাওলাদার বরিশাল সিটি করপোরেশনের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউনিয়া কালখার বাড়ি এলাকার কবির হাওলাদারের ছেলে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চৌমাথা এলাকায় চলন্ত অবস্থায় হাছান হাওলাদারের হলুদ রঙের অটোরিকশাটি পেছন দিক থেকে পুলিশের গাড়িতে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। সে সময় পুলিশের গাড়ি থেকে কয়েকজন নেমে আহত হাছানকে বরিশাল শের-
ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের স্ত্রী ময়না বেগম বলেন, ওইদিন দুপুরে আমার স্বামীর মোবাইল নম্বর
থেকে ফোন আসে। আমি রিসিভ করলে অপর প্রান্ত থেকে জানতে চায়, আমি ওই নম্বরের মালিকের কে হই। আমি তার স্ত্রী বললে, জানানো হয় আমার স্বামী দুর্ঘটনায় আহত হয়ে শের-ই-বাংলা মেডিকেলে ভর্তি আছেন। খবর পেয়ে আমি দ্রুত হাসপাতালে যাই এবং জানতে পারি, আমার স্বামী মারা গেছেন। তবে কে বা কারা তাকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছেন, তা কেউ স্পষ্ট করে বলতে পারেনি।
পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পারি, পুলিশই তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী ময়না বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে সড়ক পরিবহণ আইনে বরিশাল এয়ারপোর্ট থানায় একটি মামলা করেছেন।
ঘটনার সময়ের সিসি টিভি ফুটেজ দেখা গেলেও পুলিশ নিজেদের বাঁচাতে ফুটেজ গায়েব করেছে বলে দাবি নিহতের স্ত্রী ময়না বেগম। তিনি বলেন, পুলিশ ঘটনার সময়ের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ গায়েব করে ফেলেছে যাতে করে আসল রহস্য না বেড়িয়ে আসে। যদিও সিসি টিভি ফুটেজ গায়েব করার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার সাব-ইন্সপেক্টর আকতার হোসেন। এ বিষয়ে বিমানবন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম বলেন, ‘ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের কাশিপুর আনসার অফিস সংলগ্ন এলাকায় একটি অটোরিকশাকে পেছন থেকে একটি গাড়ি ধাক্কা দেয়। এতে অটোচালক নিহত ও দুই যাত্রী আহত হয়েছেন। প্রাথমিকভাবে কেউ কেউ বলেছেন, গাড়িটি পুলিশের হতে পারে, তবে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।