বরিশাল প্রতিনিধি: বরিশাল নগরের আলেকান্দা এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সাতটি দোকানঘর পুড়ে গেছে। এতে কয়েক লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দিবাগত মধ্যরাতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, রাত আনুমানিক ২টার দিকে নগরের দক্ষিণ আলেকান্দা এলাকার নুরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন একটি খাবার হোটেল থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন আশপাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।
এতে সোহান ও শহিদের দুটি খাবার হোটেল, মাইনুল ও সাইদুলের দুটি চায়ের দোকান, ইসমাইলের ফটোকপির দোকান, মাসুদের মুদি দোকান এবং আসলামের দধি ঘর সম্পূর্ণভাবে পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা খাইরুল ইসলাম জানান, আগুনে মোট সাতটি দোকান সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। এছাড়া একটি পাখির খাবার বিক্রির দোকান আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তিনি বলেন, “বেশিরভাগ ব্যবসায়ী পিকনিক উপলক্ষে বরিশালের বাইরে থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।”
খবর পেয়ে স্থানীয়রা দ্রুত ফায়ার সার্ভিসকে অবহিত করলে তাদের একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে আগুনে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
এদিকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা জানান, তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ায় নিয়ন্ত্রণে আনতে কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে। আগুন লাগার সঠিক কারণ ও মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে নির্ধারণ করা যায়নি বলে জানায় ফায়ার সার্ভিস।
ঘটনার পর এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরি করে প্রয়োজনীয় সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।
বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার বড়াকোঠা ইউনিয়নের গড়িয়া নতুনহাট বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৪ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে পায় কোটি টাকার ক্ষতিসাধণ হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকা জুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে উজিরপুর উপজেলার গড়িয়া নতুন হাট বাজারে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়ে মালামালসহ ৪টি দোকান ভস্মীভূত হয়ে কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।স্থানীয় লোকজন, উজিরপুর ফায়ার সার্ভিস ও উজিরপুর মডেল থানা পুলিশের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে ততক্ষনে ৪টি দোকানে মালামালসহ সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। এতে প্রায় কোটি টাকার ক্ষতি হয়।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়- মোশাররফ হোসেনের বিকাশ ও ভ্যারাইটিজ ষ্টোর এর দোকান পুরে প্রায় ২০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়। মেহেদী হাসানের ( সিকদার এন্টারপ্রাইজ), স্যানিটারি রড-সিমেন্ট ও হার্ডওয়্যারের দোকান পুড়ে প্রায় ৪৫ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়। সাখাওয়াত হোসেনের ফার্মেসি ও ঢেউটিনের দোকান পুড়ে প্রায় ১ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়। আনোয়ার হোসেন খানের ফলের দোকান ও ভ্যারাইটিজ ষ্টোরের দোকান পুরে প্রায় ৩০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। এদিকে মেহেদী হাসান জানান বিভিন্ন এনজিও এবং ব্যাংক থেকে ৩৮ লক্ষ টাকা লোন নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলো। এ ভয়াভহ অগ্নিকান্ডে তিনি স্বর্বস্ব হারিয়েছেন। ব্যবসায়ীরা ভাড়ার দোকানে ব্যবসা করতো। এছাড়াও ফাষ্ট সিকিউরিটি ব্যাংকে আগুন লেগে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।