বাবুগঞ্জ প্রতিনিধি: বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় এক সহকারী শিক্ষিকা ও তার বোনের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে বিপাকে পড়েছেন তাদের একাধিক সহকর্মী ও পরিচিতজন। অভিযুক্তরা বিভিন্ন ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ গ্রহণ এবং অন্যদের মাধ্যমে ঋণ উঠিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আলোচনায় রয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বাবুগঞ্জ উপজেলার ৫৮ নং মাধবপাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাময়িক বরখাস্ত হওয়া সহকারী শিক্ষিকা নুরুন নাহার এবং তার বোন লিপি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কৌশলে অর্থ লেনদেন করে আসছিলেন। তাদের কার্যক্রমে সহযোগিতা করা সহকর্মীদের অনেকেই এখন ঋণের দায়ে পড়েছেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মেহেরুন নেসা খানম জানান, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে নুরুন নাহারকে আগেই সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
জানা যায়, ২০২২ সালে সোনালী ব্যাংক থেকে প্রায় ১৪ লাখ টাকা ঋণ গ্রহণ করেন নুরুন নাহার। ঋণের জামিনদাতা হিসেবে স্বাক্ষর করা সহকর্মীকেও পরে বকেয়া পরিশোধের নোটিশ পাঠানো হয়।
এছাড়া বিভিন্ন এনজিও থেকে কয়েক লাখ টাকা ঋণ গ্রহণের পাশাপাশি সহকর্মীদের মাধ্যমে ঋণ উঠিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। একাধিক ভুক্তভোগী জানান, শুরুতে কিছু কিস্তি পরিশোধ করা হলেও পরে তা বন্ধ হয়ে যায়, ফলে ঋণের দায়ভার তাদের ওপর বর্তায়।
এক ভুক্তভোগী সহকারী শিক্ষিকা জানান, “বিশ্বাস করে এনজিও থেকে ঋণ তুলে দিয়েছিলাম। এখন কিস্তি আমাকেই পরিশোধ করতে হচ্ছে।”
অন্য আরেকজন সহকর্মী জানান, “প্রথমে নিয়মিত টাকা পরিশোধ করলেও পরে বন্ধ করে দেয়। এখনো বড় অঙ্কের টাকা বকেয়া রয়েছে।”
এদিকে, একটি চেক প্রতারণা মামলাও দায়ের করা হয়েছে বরিশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-এ।
অভিযোগ সম্পর্কে নুরুন নাহার দাবি করেন, পারিবারিক সমস্যার কারণে তিনি বিভিন্নজনের কাছ থেকে অর্থ নিয়েছেন। তবে তিনি কাউকে প্রতারণা করেননি বলে দাবি করেন এবং চলমান মামলাগুলো নিষ্পত্তি হয়েছে বলেও জানান।
তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তরা দেশত্যাগের পরিকল্পনা করছেন—যদিও বিষয়টি নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়নি।