বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলায় প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি আরসিসি ঢালাইয়ের সড়কে কাজ শেষ হওয়ার একদিনের মধ্যেই বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে স্থানীয় পথচারী ও বাজারের ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়রা কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে অনিয়মের অভিযোগ করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে আমপান প্রকল্পের আওতায় বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর বাজার থেকে কৃষি কলেজ মোড় পর্যন্ত প্রায় ৫০০ মিটার সড়ক আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ পায় ‘ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
চুক্তি অনুযায়ী গত শনিবার সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত একটানা আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ সম্পন্ন করা হয়। তবে ঢালাইয়ের পরদিন সকালেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় ফাটল দেখা দেয়। বিষয়টি নজরে আসতেই এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, ঢালাইয়ের সময় নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার এবং সঠিক তদারকির অভাবেই এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তাদের দাবি, রাতে ঢালাই চলাকালে দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো প্রকৌশলী উপস্থিত ছিলেন না। যদিও দিনের বেলায় এলজিইডির উপ-সহকারী প্রকৌশলী সজল কুমার দাস ঘটনাস্থলে ছিলেন বলে জানান স্থানীয়রা।
খবর পেয়ে সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গেলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বরতরা তাড়াহুড়ো করে সড়কের ফাটল অংশ কচুরিপানা ও পাটের বস্তা দিয়ে ঢেকে দেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
রহমতপুর বাজারের ব্যবসায়ী আবুল হোসেন বলেন, “এই সড়কটি আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় ছিল। নতুন করে আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ হওয়ায় আমরা আশাবাদী ছিলাম। কিন্তু একদিনের মধ্যেই ফাটল দেখা দেওয়ায় বোঝা যাচ্ছে কাজে গাফিলতি হয়েছে। গাড়ি চলাচল শুরু হলে অল্প সময়েই সড়কটি নষ্ট হয়ে যাবে।”
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে কাজ তদারককারী মোক্তার হোসেন বলেন, “ঢালাইয়ের পর নিয়ম অনুযায়ী পানি দিতে হয়। এটি কোনো বড় সমস্যা নয়। হালকা ফাটল দেখা দিয়েছে, পরে সেখানে গ্যারাটিন দেওয়া হয়েছে।”
অন্যদিকে বাবুগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী এনামুল হক আলীম বলেন,
“সড়কটি রেডিমিক্স কংক্রিট দিয়ে ঢালাই করা হয়েছে। ঢালাইয়ের পর শুকাতে শুরু করলে কিছু চুলফাটল দেখা দিতে পারে। কিউরিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে এসব ঠিক হয়ে যায়। এখানে নিম্নমানের কোনো সামগ্রী ব্যবহার করা হয়নি।”
তবে স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি সঠিকভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে সরকারি অর্থের অপচয় হবে এবং এলাকাবাসী দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।