শিক্ষার্থীদের টানা ষষ্ঠ দিনের আন্দোলনের মধ্যে বরিশালের সিভিল সার্জন (চলতি দায়িত্ব) ডা. মো. মনিরুজ্জামানকে বদলি করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে বদলির প্রজ্ঞাপনের খবর পাওয়ার পর আন্দোলনকারীরা কর্মসূচি স্থগিত করে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তালা খুলে দেন।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের যুগ্ম সচিব সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারের কর্মকর্তা ও বরিশালের সিভিল সার্জন (চলতি দায়িত্ব) ডা. মো. মনিরুজ্জামানকে পরবর্তী পদায়নের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে তাকে আগামী ৩ আগস্টের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যোগদান না করলে বর্তমান কর্মস্থল থেকে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত করা হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
গত ২৪ জুলাই বরিশালের সিভিল সার্জন হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই একদল শিক্ষার্থী তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ থাকার অভিযোগ তুলে অপসারণের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে।
‘নাগরিক সমাজ’ ব্যানারে আন্দোলনকারীরা কয়েক দিন ধরে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। রোববার সকালে তারা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করে কার্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। এ সময় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কার্যালয় থেকে বের করে দেওয়া হলে প্রায় দুই ঘণ্টা সরকারি কার্যক্রম বন্ধ থাকে এবং সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন।
পরে সিভিল সার্জনের বদলির খবর প্রকাশ হলে আন্দোলনকারীরা কার্যালয়ের তালা খুলে দেন। এরপর কার্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়। আন্দোলনের সমাপ্তি উপলক্ষে তারা কার্যালয় প্রাঙ্গণে একটি কৃষ্ণচূড়া গাছও রোপণ করেন।
আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক সাব্বির হোসেন প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “এর মাধ্যমে বরিশালের স্বাস্থ্য বিভাগ ও বরিশালবাসী ফ্যাসিবাদ, দুর্নীতি ও কলঙ্কমুক্ত হয়েছে।”
উল্লেখ্য, আন্দোলনকারীদের অভিযোগগুলো তাদের পক্ষ থেকে উত্থাপিত। এ বিষয়ে ডা. মো. মনিরুজ্জামানের প্রতিক্রিয়া বা অভিযোগের বিষয়ে সরকারি তদন্তের কোনো ফলাফল তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
https://slotbet.online/