স্থানীয়দের অভিযোগ, অনলাইন জুয়ার বিস্তার উদ্বেগজনক হারে বাড়লেও দৃশ্যমান পদক্ষেপের অভাবে চক্রগুলো আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, অনলাইন জুয়ার বিস্তার দিন দিন বাড়লেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের তৎপরতা চোখে পড়ছে না।
এরই মধ্যে গাজীপুর ও কুমিল্লায় পৃথক অভিযান চালিয়ে অনলাইন জুয়ার একটি সংঘবদ্ধ চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। অভিযানে ৬ হাজার ৬০০টি এমএফএস-সংযুক্ত সিম কার্ড, আরও ৬৭টি সিম, ৭০টির বেশি মোবাইল ফোন, একটি ল্যাপটপ ও একটি মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়েছে। ডিবির দাবি, চক্রটি প্রতিদিন প্রায় ৫ কোটি টাকার লেনদেন করে সেই অর্থ ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করত।
বুধবার রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম জানান, সাইবার নজরদারির মাধ্যমে অনলাইন জুয়ার বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও অ্যাপ শনাক্ত করে এই চক্রের সন্ধান পাওয়া যায়। তদন্তে দেখা গেছে, চক্রটি প্রতিদিন প্রায় ৫ কোটি টাকার লেনদেন করত। পরে সেই অর্থ ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করে বিদেশে পাচার করা হতো।
ডিবির তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারদের মধ্যে আরিফুল ইসলাম রিফাত চক্রটির মূল সমন্বয়কারী। এছাড়া প্রাথমিক তদন্তে 'নাতান' নামে এক চীনা নাগরিককে এই চক্রের মূল হোতা হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
বাংলাদেশকে লক্ষ্য করে পরিচালিত একাধিক অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্ম বিদেশি চক্রের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে এমএফএস ও ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে অর্থ সংগ্রহের পর তা বিদেশে পাচার করা হয় বলে জানিয়েছে ডিবি।
এদিকে বরিশাল নগরীসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন জুয়ার বিভিন্ন অ্যাপ ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অবাধে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। মোবাইল অ্যাপ, ওয়েবসাইট এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে প্রতিনিয়ত নতুন খেলোয়াড় যুক্ত করা হচ্ছে। অথচ এসব কার্যক্রমের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনো অভিযান চোখে পড়েনি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ইতিপূর্বে স্থানীয় গণমাধ্যমে একাধিকবার অনলাইন জুয়া চক্রের বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ হলেও এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো অভিযান বা দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি সচেতন মহলের। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হচ্ছে হতাশা।
সচেতন নাগরিকদের মতে, অনলাইন জুয়া শুধু অর্থনৈতিক অপরাধ নয়, এটি সামাজিক বিপর্যয়েরও অন্যতম কারণ। সহজে অর্থ উপার্জনের প্রলোভনে অনেক তরুণ এই ফাঁদে জড়িয়ে পড়ছে। ঋণগ্রস্ত হওয়া, পারিবারিক কলহ, চুরি, ছিনতাই, মাদকাসক্তি এবং সহিংস অপরাধ বৃদ্ধির পেছনে অনলাইন জুয়ার প্রভাব ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে বলে তারা মনে করেন।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে নেমে অনুসন্ধানী টিম এর সঙ্গে জড়িত কয়েকজন কথিত এজেন্টের তথ্য সংগ্রহ করেছে। তথ্য-প্রমাণ যাচাই শেষে তাদের কার্যক্রম নিয়ে ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।
অন্যদিকে সারাদেশের মতো বরিশালেও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে জুয়ার ওয়েবসাইট, অ্যাপ, স্থানীয় এজেন্ট ও অর্থ লেনদেনের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন বরিশালবাসী।
হেড অফিস: ৩৯ দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা।
মোবাইল : ০১৭৪২-২৮০৪৯৮, মেইল: dailybarishalsangbad@gmail.com
© 2026 বরিশাল সংবাদ | Barisal Sangbad