নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে সংরক্ষিত নারী আসন। সম্ভাব্য সরকার গঠনের পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এই আসনে কাদের মনোনয়ন দেবে তা নিয়ে বরিশাল বিভাগজুড়ে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
দলীয় সূত্র ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বরিশাল বিভাগের ২১টি আসনের মধ্যে বিএনপি ১৮টিতে জয় পেলে সংরক্ষিত নারী আসনের হিসাব অনুযায়ী এখান থেকে একাধিক নারী প্রতিনিধি মনোনীত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
এ পরিস্থিতিতে বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুর ও ঝালকাঠি—এই পাঁচ জেলাজুড়ে প্রায় দুই ডজনের বেশি নারী নেত্রী সক্রিয়ভাবে মনোনয়ন প্রত্যাশায় মাঠে রয়েছেন।
বরিশাল ও মহানগরে আলোচনায় যারা
বরিশাল মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম নাসরিন দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও আন্দোলন সংগ্রামের ভিত্তিতে সংরক্ষিত আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেন।
এছাড়া জেলা ও মহানগর পর্যায়ে আলোচনায় রয়েছেন—
জেলা মহিলা দলের সভাপতি
মহানগর মহিলা দলের সভাপতি
সাবেক জনপ্রতিনিধির পরিবারের সদস্য
বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের একাধিক নারী নেত্রী
তাঁদের মধ্যে অনেকে দীর্ঘদিন মাঠের আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
ভোলা, পটুয়াখালী ও বরগুনায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা
ভোলা জেলায় একাধিক নারী নেত্রী সংরক্ষিত আসনের জন্য দৌড়ঝাঁপ করছেন। এর মধ্যে জেলা মহিলা দলের নেত্রী, আইনজীবী এবং রাজনৈতিক পরিবারের সদস্যরা রয়েছেন।
পটুয়াখালীতে সাবেক সংসদ সদস্য পরিবারের সদস্যসহ জেলা মহিলা দলের একাধিক শীর্ষ নেত্রী মনোনয়ন প্রত্যাশী।
বরগুনায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, মানবাধিকারকর্মী এবং আইনজীবীরা সক্রিয়ভাবে আলোচনায় রয়েছেন।
পিরোজপুর ও ঝালকাঠির প্রার্থী তালিকা
পিরোজপুর থেকে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্যসহ একাধিক নারী নেত্রী সংরক্ষিত আসনের জন্য মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন।
ঝালকাঠিতে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের একজন নারী নেত্রীও আলোচনায় রয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষণ
দলীয় তৃণমূল নেতাকর্মীরা মনে করছেন, সংরক্ষিত নারী আসনে এমন নেত্রীদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত, যারা দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন এবং দলের দুর্দিনে মাঠে ছিলেন।
এদিকে দলীয় নীতিনির্ধারকদের মতে, চূড়ান্ত মনোনয়নে আন্দোলন-অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং জনসম্পৃক্ততাকেই প্রধান বিবেচনায় রাখা হবে।