ডিজিটাল যুগে তথ্যপ্রযুক্তির বিস্তারের ফলে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্র আগের চেয়ে অনেক বেশি উন্মুক্ত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে ফেসবুক, এখন তথ্য প্রচার ও মত প্রকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। কিন্তু এই সুযোগের অপব্যবহারও উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে একটি ফেসবুক পেজ, একটি মোবাইল ফোন এবং নিজস্বভাবে তৈরি করা একটি পরিচয়পত্রের মাধ্যমে অনেকেই নিজেদের সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন, যা প্রকৃত সাংবাদিকতা পেশার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সাংবাদিকতা শুধু ছবি তোলা, ভিডিও ধারণ করা বা ফেসবুকে লাইভ করার নাম নয়। এটি একটি দায়িত্বশীল পেশা, যেখানে তথ্য যাচাই, বস্তুনিষ্ঠতা, নৈতিকতা এবং জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হয়। একজন সাংবাদিককে প্রতিটি তথ্য প্রকাশের আগে সত্যতা যাচাই করতে হয় এবং তার প্রকাশিত তথ্যের জন্য জবাবদিহি করতে হয়। অথচ বর্তমানে অনেক তথাকথিত ‘ফেসবুক সাংবাদিক’ এসব নীতির ধার না ধরেই বিভিন্ন তথ্য ও খবর প্রচার করছেন।
বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ফেসবুকভিত্তিক তথাকথিত সাংবাদিকতার বিস্তার ঘটেছে। অনেকেই কোনো স্বীকৃত সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সম্পৃক্ত না হয়েও সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করছেন, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন এবং কখনো কখনো ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের চেষ্টাও করছেন। এতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি প্রকৃত সাংবাদিকরাও বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, যাচাই-বাছাই ছাড়া তথ্য প্রচারের কারণে গুজব, অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। একটি ভুল বা মিথ্যা তথ্য সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে, ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষতির কারণ হতে পারে। অথচ এসব তথাকথিত সাংবাদিকের কোনো পেশাগত জবাবদিহি বা নীতিগত বাধ্যবাধকতা থাকে না।
মূলধারার গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা দীর্ঘদিনের শ্রম, অভিজ্ঞতা ও পেশাগত নৈতিকতার মাধ্যমে সমাজে আস্থা অর্জন করেন। কিন্তু কিছু অপেশাদার ও সুযোগসন্ধানী ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের কারণে পুরো সাংবাদিক সমাজের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে গণমাধ্যমের প্রতি জনসাধারণের বিশ্বাসও প্রশ্নের মুখে পড়ছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন, তথ্য অধিদপ্তর, সাংবাদিক সংগঠন এবং গণমাধ্যম মালিকদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। প্রকৃত সাংবাদিকদের পরিচয় নিশ্চিত করতে নিবন্ধন ও যাচাই প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী করতে হবে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে, যাতে তারা শুধুমাত্র অনুমোদিত ও বিশ্বাসযোগ্য সংবাদমাধ্যম থেকে তথ্য গ্রহণ করেন।
মনে রাখতে হবে, ফেসবুক একটি যোগাযোগমাধ্যম হতে পারে, কিন্তু ফেসবুক পেজ খুললেই কেউ সাংবাদিক হয়ে যায় না। সাংবাদিকতা একটি পেশা, একটি দায়িত্ব এবং সর্বোপরি জনস্বার্থ রক্ষার একটি অঙ্গীকার। সেই অঙ্গীকারকে সম্মান জানাতে প্রকৃত সাংবাদিকতা ও অপসাংবাদিকতার মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য তৈরি করা এখন সময়ের দাবি।
— প্রকাশক ও সম্পাদক
আজকের তালাশ
হেড অফিস: ৩৯ দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা।
মোবাইল : ০১৭৪২-২৮০৪৯৮, মেইল: dailybarishalsangbad@gmail.com
© 2026 বরিশাল সংবাদ | Barisal Sangbad