


পাথরঘাটা প্রতিনিধি: জামায়াতে ইসলাম এখন আর ইসলামের মধ্যে নেই, তাদের কার্যক্রমে আর ইসলাম দেখা যায় না—এমন মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম। তিনি বলেন, জামায়াতের ওপর আমেরিকার ‘টিপস’ ঢুকে পড়েছে।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কে.এম. পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পাথরঘাটা উপজেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
চরমোনাই পীর বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার বয়স আজ ৫৪ বছর। যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে দেশ স্বাধীন হয়েছিল, তা আজও বাস্তবায়িত হয়নি। বরং বাংলাদেশ বিশ্বে দুর্নীতিতে পাঁচবার প্রথম হওয়ার লজ্জাজনক রেকর্ড গড়েছে।
তিনি বলেন, “যখন দেখলাম জামায়াত আর ইসলামের পথে নেই, যখন দেখলাম জামায়াতের ভেতরে আমেরিকার প্রভাব ঢুকে গেছে, তখন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তাদের সঙ্গে থাকতে পারে না।”
জনগণের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ইসলামী আন্দোলন ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করে না। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি—উভয় দলই এক সময় তাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। চাইলে তারা এমপি-মন্ত্রী হতে পারতেন। কিন্তু যেখানে জনগণের কল্যাণ নেই, যেখানে ইসলাম নেই, যেখানে ভালোবাসা নেই এবং যেখানে দুর্নীতি আছে—সেসব দলের সঙ্গে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নেই।
জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বরগুনা-২ আসনের মনোনীত প্রার্থী মুফতি মিজানুর রহমান কাসেমী বলেন, যারা ইসলামের নামে ধোঁকাবাজি করে এবং ক্ষমতার লোভে ইশতেহার থেকে ইসলাম বাদ দিতে পারে, তারা কোনো ইসলামি দল নয়। তিনি বলেন, “আমরা ইনসাফের রাজনীতি চাই। যে দল নিজেদের শরিকদের সঙ্গে ইনসাফ করতে পারেনি, তাদের সঙ্গে ইসলামী আন্দোলন থাকতে পারে না।”
তিনি আরও বলেন, “আমি যদি নির্বাচিত হই, পাথরঘাটা হবে চট্টগ্রামের মতো উন্নত একটি এলাকা। আধুনিক হাসপাতাল গড়ে তুলবো। বরগুনা একটি উপকূলীয় অঞ্চল—আমি সংসদে গেলে প্রথমেই নিখোঁজ ও নিহত জেলেদের জন্য ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের বিল উত্থাপন করবো।”
জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, কেন্দ্রীয় সহ-প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক কেএম শরিয়তুল্লাহ, জেলা সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুস শাকুর, কুয়াকাটা হুজুর মুফতি হাবিবুর রহমান মেজবাহ এবং পাথরঘাটা উপজেলা সভাপতি সোহাগ বাদশা।