{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":["local"],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"transform":1},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}

বানারীপাড়া প্রতিনিধি: রমজানের শুরুতেই বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলা জুড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে উত্তাপ ছড়িয়েছে। বিশেষ করে সবজি ও মুরগির বাজারে অস্থিরতা লক্ষ্য করা গেছে। বেগুন, কাঁচামরিচ, লেবু, আদা, রসুনসহ কয়েকটি পণ্যের দাম বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ পর্যন্ত।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) থেকে দেশে প্রথম রোজা শুরু হয়েছে। ইফতারের অন্যতম অনুষঙ্গ খেজুরের দামও বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। তবে ছোলা, ডাল ও ভোজ্যতেলসহ কিছু নিত্যপণ্যের দাম এখনো তুলনামূলক সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে।
দাম বৃদ্ধির কারণে সাধারণ ক্রেতাদের ওপর বাড়তি খরচের চাপ পড়েছে। আয়-ব্যয়ের সামঞ্জস্য রাখতে হিমশিম খেতে হচ্ছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে।
ক্রেতা নজরুল ইসলাম বলেন,“রোজার শুরুতেই অনেক পণ্যের দাম বেড়েছে। রোজায় যদি আরও বাড়ে, তাহলে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হবে। খরচ বাড়ছে, কিন্তু আয় তো বাড়ছে না।”
ক্রেতাদের অভিযোগ, রমজান এলেই কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দাম বাড়ানোর প্রবণতা দেখায়। নিয়মিত বাজার তদারকির অভাবেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে তারা দাবি করেন। বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ কামনা করেছেন ভোক্তারা।
বিক্রেতারা বলছেন, রমজানের শুরুতে অনেকেই প্রয়োজনের তুলনায় বেশি বাজার করছেন। ফলে হঠাৎ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে। তবে সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই বলে দাবি তাদের।
বানারীপাড়া বন্দর বাজার ঘুরে দেখা যায়, এক সপ্তাহ আগে বেগুন ৩০-৩৫ টাকা কেজি বিক্রি হলেও বর্তমানে তা ৮০ টাকায় উঠেছে।
কাঁচামরিচ কেজিতে ৩০-৪০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৮০-২২০ টাকায়।
লেবু হালি ৩০-৪০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৬০-৮০ টাকা।
করলা কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়।
পেঁয়াজ খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ৫৫ টাকায়। রসুনের দাম ৮০-৯০ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩০-১৪০ টাকায়। আদাও বিক্রি হচ্ছে ১৩০-১৪০ টাকা কেজিতে। পেঁয়াজের দামও কেজিতে ৫-৭ টাকা বেড়েছে।
ইফতারের অন্যতম উপকরণ সাধারণ মানের খেজুর কেজিপ্রতি ৪০-৫০ টাকা বেড়ে বর্তমানে ২৪০-২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বন্দর বাজারের আড়তদাররা জানান, শীতকালীন মৌসুমি সবজি প্রায় শেষের পথে। অন্যদিকে নতুন মৌসুমের সবজি পর্যায়ক্রমে বাজারে আসছে। এ সময়ে সরবরাহ ও আমদানির ওপর নির্ভরশীলতার কারণে দামে কিছুটা তারতম্য দেখা দেয়।
এ বিষয়ে জি.এম.এ মুনিব, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, বলেন—
“বাজার সহনীয় রাখতে প্রতিদিনই মনিটরিং করা হচ্ছে। কেউ সিন্ডিকেট করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ালে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো ভোক্তা অভিযোগ করলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
রমজানের শুরুতেই বাজার পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে উদ্বেগ তৈরি হলেও প্রশাসনের নজরদারি ও সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে—এমনটাই প্রত্যাশা সাধারণ মানুষের।