গঙ্গাস্নানে শেষ হলো কুয়াকাটার ঐতিহ্যবাহী রাস উৎসব
পটুয়াখালী প্রতিনিধি: গঙ্গাস্নান বা পুণ্যস্নানের মধ্য দিয়ে পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় শেষ হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঐতিহ্যবাহী রাস উৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা। বুধবার (৫ নভেম্বর) ভোর ৬টায় জাগতিক সব পাপ মোচনের আশায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা কুয়াকাটা সৈকতের নোনা জলে গা ভাসিয়ে গঙ্গাস্নান সম্পন্ন করেন।
স্নানের আগে সৈকতের পাড়ে মোমবাতি, আগরবাতি, বেলপাতা, ফুল, ধান, দুর্বা, হরিতকী, ডাব, কলা, তেল ও সিঁদুর অর্পণ করেন সনাতনী নারীরা। এসময় উলুধ্বনি ও মন্ত্রপাঠে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো সৈকত এলাকা। কেউ কেউ মাথা ন্যাড়া করে প্রায়শ্চিত্ত ও পিণ্ডদান সম্পন্ন করেন।
এর আগে মঙ্গলবার রাতভর কুয়াকাটা শ্রীশ্রী রাধাকৃষ্ণ মন্দিরে অনুষ্ঠিত হয় পূজার্চনা, সংগীতানুষ্ঠান ও মহানাম কীর্তন। এতে স্থানীয় ও আগত পুণ্যার্থীরা অংশ নেন। খুলনা থেকে আগত পুণ্যার্থী ললিন কৃষ্ণ রায় বলেন, “আমাদের বিশ্বাস, এই দিনে সব পাপ মোচনের সুযোগ মেলে। তাই আমরা গতকাল কুয়াকাটা এসেছি। রাতভর ভগবানের গুণকীর্তনের পর সকালে সমুদ্রস্নানের মাধ্যমে সৃষ্টিকর্তার কাছে শান্তি প্রার্থনা করেছি।”
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অধিবাসের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই উৎসব বৃহস্পতিবার সকালে সমুদ্রস্নানের মধ্য দিয়ে শেষ হবে। রাস পূজায় অংশ নিতে কুয়াকাটা সৈকতে পুণ্যার্থীদের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি পর্যটকদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।
রাস পূজা আয়োজক কমিটির সমন্বয়ক ও কুয়াকাটা সৈকতে শ্রীশ্রী রাধাকৃষ্ণ মন্দির তীর্থযাত্রী সেবাশ্রমের সভাপতি কাজল বরণ দাস বলেন, “সৈকতের পাড়ে প্রদীপ জ্বালিয়ে প্রার্থনায় বসেছেন পুণ্যার্থীরা। সাগরের সামনে নির্জনে কৃষ্ণপূজার সঙ্গে দেবতার নীল কমল ও গঙ্গাদেবীর আরাধনায় মগ্ন হয়েছেন তারা।”
সংগঠনের সহ-সভাপতি নারায়ণ চন্দ্র হাওলাদার বলেন, “বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এখানে সবার মধ্যে সুসম্পর্ক রয়েছে। আমাদের মন্দিরের পাশেই একটি মসজিদ— আমরা সবাই একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।”
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও কুয়াকাটা বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য সচিব মো. কাউসার হামিদ বলেন, “রাস উৎসব উপলক্ষে এবার আমরা বাড়তি আয়োজন করেছি। পুণ্যার্থীদের সুবিধার্থে মোবাইল টয়লেট, চেইঞ্জিং রুম ও মার্কেট সম্প্রসারণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুরো আয়োজন শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসন মাঠে থাকবে।”
ট্যুরিস্ট পুলিশের কুয়াকাটা রিজিয়নের সহকারী পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান বলেন, “ঐতিহ্যবাহী রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আমরা কঠোর ছিলাম। চার শতাধিক পুলিশ সদস্য নিরাপত্তায় নিয়োজিত ছিলেন। আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেও সন্ধ্যা পর্যন্ত নিরাপত্তা জোরদার থাকবে।”
ছবি: রাস উৎসবে অংশ নেওয়া পুণ্যার্থীদের গঙ্গাস্নান, কুয়াকাটা সৈকত, পটুয়াখালী।
