
✍️ নিজস্ব প্রতিবেদক | বরিশাল সংবাদ
জীবনের গভীর অন্ধকার পেরিয়ে আলোর পথে ফিরলেন জয়িতা সালমা বেগম। নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করা এই নারীকে ঘরের চাবি হস্তান্তর করেছেন বরিশালের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন।
বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর এলাকায় আয়োজিত এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে সালমার হাতে ঘরের চাবি তুলে দেন জেলা প্রশাসক। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রশাসন, সমাজসেবা অধিদপ্তর, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, স্থানীয় সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের সদস্যবৃন্দ।
দরিদ্র পরিবারের সাত ভাইবোনের মধ্যে সবার বড় ছিলেন সালমা বেগম। ২০০৩ সালে মাত্র ১৩ বছর বয়সে আপন চাচাতো ভাইয়ের দ্বারা ধর্ষণের শিকার হন তিনি। এক বছর পর, ২০০৪ সালের ৯ জুন জন্ম দেন এক পুত্র সন্তানের।
ধর্ষণের ঘটনার পর সালমার বাবা মামলা দায়ের করলেও, প্রভাবশালী মহলের চাপে গ্রাম ছাড়তে হয় পরিবারকে। ২০০৬ সালে বাবার মৃত্যু হলে, আড়াই বছরের সন্তানকে মায়ের কাছে রেখে সালমা ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকরি নেন।
দীর্ঘ আট বছর পর ২০১১ সালে আদালতের রায়ে আসামি গিয়াস উদ্দিনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং সালমার সন্তানের ভরণপোষণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে বহনের নির্দেশ আসে।
কিন্তু জীবনের বাস্তবতায় সালমা তখন আশ্রয়হীন, নিঃস্ব ও নিরুপায়। সরকারের আর্থিক সহায়তার অধিকাংশই আত্মীয়দের দ্বারা আত্মসাৎ হয়।
মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মাধ্যমে সর্বশেষ কিস্তির অর্থ প্রদানের সময় বিষয়টি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেনের নজরে আসে। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি খতিয়ে দেখে সালমার জন্য স্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা নেন।
বাবুগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন, সমাজসেবা অধিদপ্তর, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর ও এনজিওসমূহের সহযোগিতায় রহমতপুরে একখণ্ড জমি কিনে একটি আধাপাকা ঘর নির্মাণ করা হয়। একই সঙ্গে সালমার হাতে তার ছেলের ভরণপোষণের শেষ কিস্তির ১,৮২,২৮১ টাকার চেক হস্তান্তর করা হয়।
মাথা গোঁজার একটি স্থায়ী ঠিকানা পেয়ে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি সালমা বেগম। তিনি বলেন,
“আজ আমি সত্যিই শান্তিতে আছি। আমার ছেলেকে মানুষ করার এখন স্বপ্ন দেখি। জেলা প্রশাসক ও সরকারের কাছে আমি চিরকৃতজ্ঞ।”
বর্তমানে সালমার পুত্র স্থানীয় এক কলেজে উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণিতে অধ্যয়ন করছে।