
বরিশালে দুপুর ১টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সূর্যের দেখা মেলেনি। মেঘাচ্ছন্ন আকাশের সাথে কুয়াশার দাপটে তাপমাত্রার পারদ স্বাভাবিকের দশমিক ৩ ডিগ্রী নিচে থাকায়, কনকনে ঠান্ডায় সপ্তাহের প্রথম কর্ম দিবসেই বরিশালে জনজীবন প্রায় বিপর্যস্ত। অতি জরুরী প্রয়োজন ছাড়া কেউই ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। এমনকি রোববার দিনভরই দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রাও স্বাভাবিকের ওপরে রয়েছে।
অব্যাহত শৈত্য প্রবাহে দক্ষিণাঞ্চলের জনস্বাস্থ্যে সংকট ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে। প্রতিদিন শের এ বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বরিশাল জেনারেল হাসপাতাল সহ এ অঞ্চলের সবগুলো হাসপাতালেই নিউমোনিয়া ও ঠাণ্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা আশংকাজনক হারে বাড়ছে। কোন হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের মেঝেতেও এখন রোগীর ঠাই মিলছে না। ওষুধ সহ চিকিৎসা সামগ্রীর অভাব না থাকলেও রোগীর ভিড়ে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মীদেরই প্রাণ ওষ্ঠাগত। ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসা সেবা।
অপরদিকে চলমান শৈত্যপ্রবাহে দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান দুটি অর্থকারী ফসল বোরো বীজতলা ও গোল আলুর ঝুঁকি ক্রমশ বাড়ছে। চলতি রবি মৌসুমে বৃহত্তর দক্ষিণাঞ্চলে প্রায় ৩.৮৫ লাখ হেক্টরে বোরো আবাদের লক্ষ্যে ২০,৩১৭ হেক্টরে বোরো বীজতলা তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে। কিন্তু অব্যাহত শৈত্য প্রবাহে বোরো বীজতলা ‘কোল্ড ইনজুরি’র কবলে পড়তে যাচ্ছে। পাশাপাশি প্রায় ১৫ হাজার হেক্টরে যে গোল আলুর আবাদ হচ্ছে, তা ‘লেট ব্লাইট’ নামের এক ধরনের ছত্রাকবাহী রোগে আক্রান্ত হবারও শঙ্কা বাড়ছে। তবে যে প্রায় ৬০ হাজার হেক্টরে যে গমেরও আবাদ হচ্ছে, শীতের প্রকোপ বৃদ্ধির ফলে তার ফলন বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চলতি রবি মৌসুমে বৃহত্তর দক্ষিণাঞ্চলের ১১ জেলায় প্রায় ১৬ লাখ টন বোরো চাল, ৩ লক্ষাধিক টন গোল আলু ও দুই লক্ষাধিক টন গম উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে।এমনকি সকাল ১০টা পর্যন্ত নৌপথের বেশীরভাগই কুয়াশায় ঢাকা থাকায় নৌযোগাযোগও ব্যাহত হচ্ছিল। ঢাকা থেকে বরিশালের মুলাদীগামী ‘এমভি মহারাজ-৭’ নামের একটি যাত্রীবাহী নৌযান সকাল ৯টায় গোসাইরহাটের কোদালপুর এলাকার আড়িয়াল খাঁ নদ অতিক্রমকালে নোঙরে থাকা অপর একটি ছোট আকারের পণ্যবাহী নৌযানের ওপর আছড়ে পড়লে যাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক ভীতি ছড়িয়ে পরে। এ দুর্ঘটনায় এমভি মাহারাজ-৭’র দোতালার ডেকের প্রায় ৩০ ফুট অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কেউ হতাহত হয়নি। কুয়াশার কারণে সড়ক পথেও যানবাহন চলাচল স্বাভাবিকের অনেক কম।
আবহাওয়া বিভাগের মতে মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করলেও এর একটি বর্ধিতাংশ বরিশাল উপকূল সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। ৩১ জানুয়ারি পর্যন্তই বরিশাল সহ সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলেও তাপমাত্রার পারদ প্রতিদিনই সামান্য করে নিচে নামার কথা জানিয়ে আগামী ১ জানুয়ারি তা একটু ওপরে উঠবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ। পরবর্তী ৫ দিনেও তাপমাত্রা আরো বাড়বে বলে আশার কথা শুনিয়েছেন আবহাওয়াবীদগন। তবে এর আগে পর্যন্ত কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে শীতের অনুভূতি অব্যাহত থাকার কথাও জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।তাপমাত্রার পারদ আগের দিনের চেয়ে দশমিক ৬ ডিগ্রী ওপরে উঠলেও উত্তর-পূবের হাওয়ার সাথে মাঝারী থেকে ঘন কুয়াশার চাঁদরে ঢেকে আছে বরিশাল সহ সমগ্র দক্ষিণাঞ্চল। তবে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা এখনো স্বাভাবিকের তুলনায় দশমিক ৩ ডিগ্রী নিচে। সড়ক, নৌ ও আকাশ যোগাযোগ প্রায় বিপর্যস্ত। দেশের একক বৃহত্তম বরিশাল-ঢাকা নৌপথ সহ দক্ষিণাঞ্চলের সবগুলো নৌপথেই যোগাযোগ ব্যবস্থা যথেষ্ট বিপর্যয়ের কবলে। বরিশাল সেক্টরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স-এর সকাল সোয়া ১০টার ফ্লাইট দুপুর ১টা পর্যন্ত আকাশে উড়তে পারেনি। বরিশাল বিমান বন্দরের দৃশ্যমানতা এখনো ১ হাজার মিটারের নিচে রয়েছে। ফলে বরিশাল ও ঢাকা বিমানবন্দরে এ সেক্টরের বিপুল যাত্রী আটকে আছেন।