দক্ষিণাঞ্চলে নতুন করে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে প্রাণঘাতী জলাতঙ্ক (Rabies) রোগ। পোষা প্রাণীর কামড়ে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসেই বরিশাল বিভাগে ১০ হাজার ৮৫১ জন মানুষ জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন।
সম্প্রতি ঝালকাঠিতে কাজী মনিরুজ্জামান মান্না নামে এক যুবকের মৃত্যুতে বিষয়টি আবারও আলোচনায় আসে।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, “সংক্রামক এ রোগ থেকে রক্ষা পেতে ব্যক্তি ও পরিবার পর্যায়ে সচেতনতার বিকল্প নেই।”
বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী—
সব মিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০,৮৫১ জন, যা গত কয়েক বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
মঙ্গলবার সরেজমিনে বরিশাল জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন নিতে সকাল থেকেই লাইন ধরে অপেক্ষা করছেন শতাধিক রোগী।
প্রতিদিন গড়ে ২৫০–৩০০ জন আক্রান্ত ব্যক্তি ভ্যাকসিন নিচ্ছেন।
নগরীর কাশীপুরের শিক্ষার্থী বাইজিদ (১৪) বিড়ালের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে এসেছেন। সদর উপজেলার করাপুর গ্রামের শিশু সিয়াম (৬) নিচ্ছেন প্রথম ডোজ। নবগ্রাম রোডের শিশু মাঈদা (৪) প্রিয় বিড়ালের কামড়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
চিকিৎসকরা জানান, বর্তমানে বিড়ালের কামড়ে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কুকুরের চেয়ে বেশি।
ভ্যাকসিনের বড় কোনো সংকট নেই, তবে মাঝে মাঝে সরবরাহে বিলম্ব হচ্ছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
বরিশাল সদর জেনারেল হাসপাতালের আরএমও ডা. মলয় কৃষ্ণ বড়াল বলেন—
“অনেকেই পোষা প্রাণী রাখেন কিন্তু তাদের ভ্যাকসিন দেন না। এতে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে। তাই সবাইকে সচেতন হতে হবে—নিজে বাঁচুন, সমাজকেও বাঁচান।”
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জলাতঙ্ক প্রতিরোধে নিয়মিত ভ্যাকসিন কার্যক্রম জোরদার করা জরুরি।
পোষা প্রাণীদের প্রতি বছর একবার টিকা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা এবং গণসচেতনতামূলক প্রচার চালানো সময়ের দাবি।
তাদের মতে,
“জলাতঙ্কে আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে, ফলে সচেতনতা, সময়মতো চিকিৎসা ও পোষা প্রাণীর টিকাদানই এখন সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা।”
জলাতঙ্ক প্রতিরোধে প্রধান বার্তা—
🩺 “প্রতিরোধই জলাতঙ্ক থেকে বাঁচার একমাত্র উপায়।”
হেড অফিস: ৩৯ দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা।
বরিশাল অফিস: হাবিব ভবন, ১১৮ সদর রোড, বরিশাল।
মোবাইল : ০১৭৪২-২৮০৪৯৮,
মেইল: dailybarishalsangbad@gmail.com