হাইকমান্ডে তদ্বিরের ঝড়
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে। এখনও চূড়ান্ত দিনক্ষণ ঘোষণা না হলেও বরিশাল জেলায় নির্বাচনী উত্তাপ বেড়ে উঠেছে। বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে অংশ নিতে জেলার ৬টি আসনে অন্তত অর্ধশতাধিক প্রার্থী প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব থেকে শুরু করে স্থানীয় পর্যায় পর্যন্ত মনোনয়ন বাগানোর দৌড় শুরু হয়েছে।
আসনভিত্তিক মনোনয়নপ্রত্যাশী ও বিশ্লেষণ
বরিশাল-১ (আগৈলঝাড়া-গৌরনদী)
ধানের শীষের প্রার্থী হতে চান বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবেক এমপি জহির উদ্দিন স্বপন, নির্বাহী সদস্য প্রকৌশলী আব্দুস সোবাহান এবং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান।
বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া)
প্রার্থী হতে আগ্রহী সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু, দুলাল হোসেন, দেলোয়ার হোসেন, কাজী রওনুকুল ইসলাম টিপু ও সাইদ মাহামুদ জুয়েল।
বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী)
মনোনয়ন চাইছেন সেলিমা রহমান ও জয়নুল আবেদিন।
বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ)
প্রার্থী হতে চান মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ ও রাজিব আহসান।
বরিশাল-৫ (সদর)
তিনবারের সাবেক এমপি মজিবর রহমান সরোয়ার, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, আবু নাসের মোহাম্মদ রহমতুল্লাহ, এবায়েদুল হক চাঁনসহ আরও কয়েকজন প্রার্থী প্রার্থীতা জানিয়েছেন।
বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ)
মনোনয়নপ্রত্যাশী আবুল হোসেন, নজরুল ইসলাম খান রাজন, আবু জাফর শিকদার বাদল প্রমুখ।
হাইকমান্ডের তৎপরতা ও গ্রুপিং সংকট
মনোনয়নপ্রত্যাশী বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় বিএনপিতে অন্তর্কোন্দল বাড়ছে। সূত্র বলছে, হাইকমান্ড ইতিমধ্যেই আসনভিত্তিক বৈঠক শুরু করেছে এবং বরিশাল-১, ৩, ও ৪ আসনের তিনজন প্রার্থীকে “গ্রিন সিগন্যাল” দিয়েছে বলে জানা গেছে। তবে বাকি প্রার্থীরা বিষয়টি গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
দলীয় প্রতিক্রিয়া
“বিএনপি বড় দল। তাই প্রার্থীও বেশি হবে। একক প্রার্থী ঘোষণার পর সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে থাকবে।” — সেলিমা রহমান, স্থায়ী কমিটির সদস্য
বরিশালের ৬টি আসনে বিএনপির এই মনোনয়ন প্রতিযোগিতা শুধু রাজনৈতিক উত্তেজনাই নয়, বরং আসন্ন নির্বাচনের মাঠ-পর্যায়ের চিত্রও তুলে ধরছে। স্থানীয় ভোটাররা এখন তাকিয়ে আছেন—দলীয় হাইকমান্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে।
আরও পড়ুন:
বরিশাল সংবাদ |
রাজনীতি
