বরিশালে বাবার মৃত্যুর পর সম্পত্তি ভাগাভাগি নিয়ে দুই ঘরের ১৩ ভাই-বোনের মধ্যে দেখা দিয়েছে তীব্র বিরোধ। অভিযোগ উঠেছে—বড় ভাই আনিছুর রহমান কৌশলে তাদের বাবার দোকান ও অন্যান্য সম্পত্তি এককভাবে দখলে নিয়ে বছরের পর বছর আয় ভোগ করে যাচ্ছেন।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, আনিছুর রহমান কখনও নিজেকে বিএনপি নেতা, আবার কখনও জামায়াতে ইসলামী নেতা পরিচয় দিয়ে প্রভাব খাটিয়ে ছোট ভাই-বোনদের অংশ থেকে বঞ্চিত করে আসছেন।
তাদের বাবা আদম আলী শিকদার ২০০৬ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তার দুই স্ত্রীর সংসারে মোট ১৩ সন্তান। বাবার মৃত্যুর পর বড় ছেলে আনিছুর রহমান বাবার দোকানঘরসহ সম্পত্তি নিজের দখলে নেন।
অন্য ভাই-বোনরা যখন নিজেদের অংশ বুঝে নিতে যান, তখন আনিছুর রহমান উল্টো তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজিসহ তিনটি মামলা দিয়ে হয়রানি করেন বলে অভিযোগ পরিবারের সদস্যদের।
আদম আলীর দ্বিতীয় স্ত্রী মোর্শেদা বেগম জানান, স্বামীর মৃত্যুর পর তিনিও তার প্রাপ্য অংশ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি ও তার সন্তানরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আদম আলী ছিলেন একজন ব্যবসায়ী এবং বিআইডব্লিটিএর লিজকৃত জায়গায় দোকান ঘর নির্মাণ করেছিলেন। ওই দোকান থেকেই আনিছুর রহমান প্রতি মাসে প্রায় ৪৫ হাজার টাকা আয় করছেন, যা অন্য ভাই-বোনদের সঙ্গে ভাগ করছেন না।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, উক্ত জমি নিয়ে দীর্ঘদিন আদালতে মামলা চলমান ছিল। পরে আদালত বিআইডব্লিটিএর পক্ষে রায় দিলেও ‘ভোগদখলকারী ব্যক্তি’ সম্পত্তি ব্যবহার করতে পারবেন বলে উল্লেখ করেন আদালত।
এর পর থেকে বড় ভাই আনিছুর রহমান একাই দোকান ও সম্পত্তি দখলে রেখে ব্যবহার করছেন।
ছোট ভাই খলিলুর রহমান বলেন, “বাবার মৃত্যুর পর বড় ভাই কৌশলে আমাদের বঞ্চিত করেছেন। আদালতের রায় আমাদের পক্ষে থাকা সত্ত্বেও তিনি টাকার জোরে জাল দলিল বানিয়ে সম্পত্তি নিজের নামে দাবি করছেন।”
অন্য ভাই সোহেল শিকদার বলেন, “আনিছুর রহমান শুধু আমাদেরই নয়, সৎ মাকেও প্রতারণা করেছেন। বাবার সম্পত্তি আত্মসাৎ করতে গিয়ে তিনি আমাদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন।”
ভুক্তভোগী ১২ ভাই-বোন প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন যেন তারা দ্রুত হস্তক্ষেপ করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করেন এবং বাবার সম্পত্তি থেকে তাদের প্রাপ্য অংশ ফিরিয়ে দেন।
বিষয়টি জানতে অভিযুক্ত আনিছুর রহমানের মুঠোফোনে (০১৭১২-০৬…৪১) একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।