
দুয়ারে কড়া নাড়ছে দেবী দুর্গার আগমনবার্তা। শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে বরিশাল নগরীসহ জেলায় পূর্ণোদ্যমে চলছে প্রস্তুতি। প্রতিমা নির্মাণ শেষ পর্যায়ে, শিল্পীরা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন রংতুলিতে দেবী ও দেবদেবীর প্রতিমা সাজাতে।
প্রতি বছরের মতো এবারও বরিশাল নগরীর নতুন বাজার শ্রীশ্রী শংকর মঠ পূজামণ্ডপে চলছে বিশেষ প্রস্তুতি। প্রতিমা সাজসজ্জা থেকে শুরু করে মণ্ডপের ভেতর-বাহিরে আলোকসজ্জা—সব ক্ষেত্রেই নতুনত্ব আনার চেষ্টা করছেন আয়োজকরা। পুকুরজুড়ে দৃষ্টিনন্দন সাজসজ্জার পাশাপাশি অষ্টমীর দিনে দেশের শান্তিকামনায় বিশেষ প্রার্থনা ও অঞ্জলি প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, ওইদিন প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার ভক্তের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হবে।
শংকর মঠ পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি লিমন সাহা কানু বলেন, “প্রতি বছরের মতো এবারও জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন করা হচ্ছে। শান্তি ও সৌহার্দ্যের বার্তা ছড়াতেই অষ্টমীতে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন রাখা হয়েছে।”
এবার বরিশাল মহানগরীতে ৪৭টি মণ্ডপে পূজা হবে। এর মধ্যে ৪০টি সার্বজনীন ও ৭টি পারিবারিক। জেলায় সদর উপজেলায় ২২টি, আগৈলঝড়ায় ১৬১টি, উজিরপুরে ১২০টি, গৌরনদীতে ৮৪টি, বাকেরগঞ্জে ৭৪টি, বানারীপাড়ায় ৫৯টি, মেহেন্দিগঞ্জে ২৪টি, বাবুগঞ্জে ২৪টি, মুলাদীতে ১২টি ও হিজলায় ১৫টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। সব মিলিয়ে জেলায় মোট ৬৪০টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসবের আয়োজন করা হচ্ছে।
বরিশাল মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ভানু লাল দে বলেন, “গতবারের তুলনায় এবারের আয়োজন আরও জমকালো। পুলিশের সহযোগিতার পাশাপাশি আমাদের পক্ষ থেকেও পাঁচটি পর্যবেক্ষক টিম গঠন করা হয়েছে।”
পূজা নির্বিঘ্নে উদযাপন নিয়ে কোনো শঙ্কা না থাকলেও, গ্রামীণ মণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মানিক মুখার্জি। তিনি বলেন, “আমরা চাই এবারের দুর্গোৎসব সুন্দর ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হোক। মন্দির আমরা পাহারা দেব, তবে প্রশাসনের সহযোগিতাও প্রয়োজন।”
উৎসবকে ঘিরে ইতোমধ্যেই প্রশাসন কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। নগরীর প্রবেশদ্বার ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বসানো হয়েছে চেকপোস্ট, টহলে নামানো হয়েছে গোয়েন্দা পুলিশের সাতটি বিশেষ টিম। ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে প্রতিটি মণ্ডপে মোতায়েন থাকবে পুলিশ।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, “দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর করতে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, র্যাব ও আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করবে মণ্ডপ কমিটিগুলোও। পূজা ও বিসর্জন ঘিরে শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং মদ্যপান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।”
উল্লেখ আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় বোধন পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হবে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। ২৮ সেপ্টেম্বর ষষ্ঠী, ২৯ সেপ্টেম্বর সপ্তমী, ৩০ সেপ্টেম্বর মহাষ্টমী, ১ অক্টোবর নবমী এবং ২ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে শারদীয় দুর্গাপূজা।