
বরিশাল: বদলি, দলিল নিবন্ধন ও দলিলের নকল উত্তোলনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট হারে ঘুস নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বরিশাল জেলা রেজিস্ট্রার অফিস-এর জেলা রেজিস্ট্রার মোহছেন মিয়ার বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, বরিশালে যোগদানের পর থেকেই তিনি নিয়মিত ঘুস গ্রহণ করে আসছেন। এতে করে বরিশাল সদর সাবরেজিস্ট্রার অফিসসহ জেলার ১০টি উপজেলা সাবরেজিস্ট্রার অফিসে অনিয়ম প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায় তিন বছর ধরে জেলা রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বদলি বাণিজ্য, দলিল প্রতি ঘুস, দলিলের নকল তুলতে ঘুস এবং দলিল লেখকদের কাছ থেকে বাৎসরিক অর্থ আদায় এখন অফিসপাড়ায় ‘ওপেন সিক্রেট’ হিসেবে পরিচিত। অভিযোগ অনুযায়ী, এ ঘুস আদায়ে তার দুই সহযোগী— অফিস সহকারী হালিম সিপাহি ও মহাদেব নিয়মিত ভূমিকা রাখছেন।
অভিযোগে বলা হয়, বদলির নামে ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়। এছাড়া প্রতি দলিলে ২০০ টাকা, নকল উত্তোলনে ৩৫ টাকা এবং প্রায় ৩০০ দলিল লেখকের কাছ থেকে বাৎসরিক লাইসেন্স নবায়ন বাবদ জনপ্রতি দেড় হাজার টাকা করে আদায় করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সাবরেজিস্ট্রার অফিস কর্মচারী জানান, বরিশালে যোগদানের পর থেকেই জেলা রেজিস্ট্রার বদলি বাণিজ্যে জড়িত। তাদের ভাষ্যমতে, বরিশাল সদর অফিস থেকে দুর্নীতির দায়ে বদলি হওয়া এক অফিস সহকারীকে চার লাখ টাকা ঘুসের বিনিময়ে পুনরায় একই অফিসে যোগদান করানো হয়। আবার ঘুস দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় অন্য এক কর্মচারীকে বদলি করা হলে তিনি প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন।
আরও অভিযোগ রয়েছে, পদোন্নতির বিনিময়ে একাধিক কর্মকর্তার কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ নেওয়া হয়েছে। এমনকি অবসরপ্রাপ্ত এক পিয়নের পেনশনের টাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রেও ঘুস দাবি করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে ঘুস বাণিজ্যের অভিযোগে গত বছরের ১৬ এপ্রিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বরিশাল জেলা রেজিস্ট্রার অফিসে অভিযান চালায়। অভিযোগ রয়েছে, অভিযানের খবর পেয়ে জেলা রেজিস্ট্রার আগেই সরে পড়েন। যদিও এ বিষয়ে তিনি দাবি করেছেন, সেদিন অফিসের কাজে ঢাকায় ছিলেন।
এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে জেলা রেজিস্ট্রার মোহছেন মিয়া সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। দুদকের অভিযানের সময় অফিসে না থাকার প্রসঙ্গে তিনি জানান, তিনি ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। তবে অফিস সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র দাবি করেছে, অভিযানের সময় তিনি অফিসেই ছিলেন।
এ প্রসঙ্গে বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. খাইরুল আলম সুমন বলেন, ঘুস ও দুর্নীতির বিষয়ে কেউ সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দিলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে দলিল করতে আসা একাধিক ভুক্তভোগী অভিযোগ করে বলেন, এ ধরনের বিতর্কিত কর্মকর্তাকে বদলি না করা হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে না।