
হিজলা প্রতিনিধি : বরিশালের হিজলা উপজেলায় মেঘনা নদীর তীর থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত গলাকাটা যুবকের মরদেহের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। নিহত যুবকের নাম আমির হোসেন (৩০)। তিনি লক্ষ্মীপুরের রায়পুরা উপজেলার চরবংশী ইউনিয়নের চরখাসিয়া গ্রামের স্বপন হাওলাদারের ছেলে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে হিজলা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক গৌতম চন্দ্র মণ্ডল বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
নিহতের বাবা স্বপন হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন, গ্রামে বসবাসকালে দেনার চাপে পড়ে তার ছেলে স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে ঢাকার মুন্সীগঞ্জে চলে যান। সেখানে একটি হোটেলে শ্রমিকের চাকরি নেন আমির। চাকরির সুবাদে পাশের একটি হোটেলের আরেক শ্রমিকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে, যিনি নিয়মিত তাদের বাসায় যাতায়াত করতেন।
তিনি বলেন, ওই ব্যক্তি আর্থিক সংকটে পড়লে আমিরকে ৪০ হাজার টাকা সহায়তা করে। একপর্যায়ে ওই হোটেল শ্রমিকের সঙ্গে আমিরের স্ত্রীর পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি আমির জানতে পারলে তাদের মধ্যে তীব্র বিরোধ সৃষ্টি হয়।
স্বপন হাওলাদারের অভিযোগ,
“আমার ছেলে স্ত্রীর অবৈধ সম্পর্ক ধরে ফেলায় পরিকল্পিতভাবে তাকে বরিশালের হিজলা উপজেলায় নিয়ে এসে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে।”
হিজলা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ গৌতম চন্দ্র মণ্ডল জানান,
“সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ৩টার দিকে বড়জালিয়া ইউনিয়নের শান্তি বাজার সংলগ্ন মেঘনা নদীর তীর থেকে গলাকাটা অবস্থায় এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন নিহতের পরিবার এসে পরিচয় শনাক্ত করে।”
তিনি আরও জানান, পরিচয় শনাক্তের আগেই বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে মরদেহ দাফনের জন্য আঞ্জুমানে হস্তান্তর করা হয়।
এই ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের পরিবারের দাবি অনুযায়ী, পরকীয়া সম্পর্ককে কেন্দ্র করেই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে তদন্ত চলছে।
নদীপথে এভাবে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন—নদীঘেরা হিজলায় আর কত প্রাণ গেলে অপরাধীদের লাগাম টানা হবে?
পূর্বের সংবাদটি: বরিশালে নৌকা থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার