
ঢাকায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন এক ব্যক্তি। কিন্তু ঢাকায় না গিয়ে প্রেমিকার সঙ্গে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন বরিশাল নগরীতে। শেষ পর্যন্ত স্ত্রী ও বৃদ্ধা মায়ের হাতে ধরা পড়লেও নিজেকে সামলাতে পারেননি তিনি। উল্টো জনসম্মুখে স্ত্রীকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে ওই স্বামীর বিরুদ্ধে।
রোববার (৪ ডিসেম্বর) দুপুরের দিকে বরিশাল নগরীর ফজলুল হক এভিনিউ সড়কে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় এক সন্তানের জননী গৃহবধূকে রাস্তায় ফেলে মারধর করা হলে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। তবে আশ্চর্যের বিষয়, ঘটনাস্থলে উপস্থিত পথচারীরা দাঁড়িয়ে দেখলেও কেউ এগিয়ে আসেননি।
অভিযুক্ত ব্যক্তি রবিউল ইসলাম (প্রায় ৩০), ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার দপদপিয়া এলাকার বাসিন্দা। প্রায় সাত বছর আগে পারিবারিকভাবে মুলাদী উপজেলার সেকান্দার মল্লিকের মেয়ে আঁখিকে বিয়ে করেন তিনি। তাদের সংসারে একটি পুত্রসন্তান রয়েছে।
রবিউলের মা অভিযোগ করে বলেন, রবিউলের সঙ্গে আগে এক নারীর সম্পর্ক ছিল। সেই নারী তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলাও করেছিলেন। ওই মামলা চালাতে গিয়ে দেড় লাখ টাকার বেশি খরচ হয়েছে। বর্তমানে সেই একই নারীর সঙ্গেই পরকীয়ায় জড়িয়েছেন রবিউল। রোববার বরিশালে এসে দুজনকে একসঙ্গে হাতেনাতে ধরেন তিনি ও তার পুত্রবধূ।
ভুক্তভোগী গৃহবধূ আঁখি জানান, তার স্বামী বর্তমানে বেকার। শনিবার সকালে বাসা থেকে বের হওয়ার পর আর কোনো খোঁজখবর নেননি। সন্ধ্যায় ফোন করে জানান তিনি ঢাকায় যাচ্ছেন।
তিনি বলেন,“কথাবার্তায় সন্দেহ হলে রোববার দুপুরে শাশুড়িকে নিয়ে স্বামীকে খুঁজতে বরিশাল শহরের সদর রোডে আসি। পরে ফজলুল হক এভিনিউ সড়কে স্বামীকে তার প্রেমিকার সঙ্গে একসঙ্গে দেখি। আমাকে দেখেই দুজন পালানোর চেষ্টা করে। বাধা দিলে স্বামী আমাকে মারধর করে।”
গৃহবধূ আঁখি জানান, এই ঘটনায় তিনি স্বামী ও তার প্রেমিকার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।