
বরিশালে আসন ভাগাভাগি নিয়ে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের দ্বন্দ্বে জয়ের স্বপ্ন দেখছে বিএনপি। বিভিন্ন আসনের ভোটারদের মতে, বরিশালে তিন থেকে চারটি আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চরম প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে। সমমনা দলগুলোর ঐক্যের কারণে এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু ভোট ভাগ হলে তাদের অবস্থান দুর্বল হবে, ফলে জিতে যাবে ধানের শীষ।
বরিশালের ২১টি নির্বাচনি এলাকার মধ্যে ২০টিতে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা। জোট ছাড়া করা হয়েছে বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী)। ইসলামী আন্দোলনের আমির চরমোনাইর পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীমের আসন বরিশাল-৫ (সদর)–এ জামায়াতও মনোনয়ন দিয়েছেন।
জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা বিভিন্ন আসনে পালটাপালটি মনোনয়ন দাখিল করেছেন। জয়ের সম্ভাবনা থাকা আসনগুলোতে দ্বন্দ্ব স্পষ্ট। বরিশাল সদর চরমোনাই ইউনিয়নে দরবার শরিফে ইসলামী আন্দোলনের শক্তি বেশি হলেও কোনো আসন এখনও জয় হয়নি। তবে তাদের নিজস্ব ভোটব্যাংক থাকায় ৩-৪টি আসনে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই আসনগুলো হলো পিরোজপুর-৩, বরিশাল-৫, বরিশাল-৬ ও পটুয়াখালী-৪। জামায়াতের শক্ত অবস্থান রয়েছে পিরোজপুর-১, পিরোজপুর-২ ও পটুয়াখালী-২। অন্যান্য ১৪টি আসনেও বিএনপির সঙ্গে ইসলামী দলগুলোর লড়াই সম্ভব, কিন্তু দ্বন্দ্ব থাকলে জয় হারাতে পারে তারা।
ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেন, “এটি কোনো রাজনৈতিক জোট নয়, এটি নির্বাচনি ঐক্য। আমাদের ১৪৩টি আসনে জয়ী হওয়ার মতো সক্ষমতা আছে, বরিশাল অঞ্চলেই ১৮-১৯টি আসনে জয়ের সম্ভাবনা।” জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়াজ্জম হোসাইন হেলাল বলেন, “আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধি হবে। সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচন করব ইনশাআল্লাহ।”