
এসএন পলাশ :: বরিশাল নগরীর ৩০টি ওয়ার্ড ও সদর উপজেলায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে দুই ডজন কিশোর গ্যাং। ফেসবুক গ্রুপে জানান দিয়ে এলাকাভিত্তিক নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালায় গ্রুপগুলো। র্যাগিং, যৌন হয়রানি, মারামারি, কোপানো, চুরি-ছিনতাই, মাদকের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণসহ নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত। নগরবাসীর মতে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এসব গ্যাংয়ের লাগাম না টানলে পরিস্থিতি ভয়াল আকার ধারণ করতে পারে।
তথ্যমতে, উদ্ভট নামে তারা সক্রিয় রয়েছে ফেসবুকে। একেকটা বাহিনী বিশাল, তবে নিয়ন্ত্রণে করে দু-তিনজন। গত দুই মাসে নগরীতে প্রকাশ্যে অন্তত পাঁচটি কোপানোর ঘটনা ঘটায় তারা। বুধবার রাতে সদর রোডে প্রকাশ্যে ১০-১২ জনের একটি গ্রুপ কুপিয়ে ফেলে যায় একজনকে। এর আগে একই রোডের ফাতেমা সেন্টারের সামনে সন্ধ্যার পর প্রকাশ্যে এক যুবককে কোপানো হয়। এ ছাড়া নগরীর ব্যস্ত সড়কগুলোতে প্রতিদিন চুরি-ছিনতাইয়ে জড়িত গ্রুপের সদস্যরা। জুয়াবাণিজ্যও নিয়ন্ত্রণ করে। অনলাইন-অফলাইনে চলে এ বাণিজ্য। জুয়ার টাকা নিয়ে সংঘর্ষে পঙ্গুত্ব বরণ ও হত্যাকাণ্ডও ঘটছে।
বুধবার রাতে সদর রোডে কোপানো হয় জুয়ার টাকা নিয়ে দুই গ্রুপের বিরোধে। তবে এ বিষয়ে থানায় কেউ অভিযোগ দেয়নি।
সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, স্কুল-কলেজ ক্যাম্পাস ও বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে কিশোর গ্যাং সদস্যদের র্যাগিং, যৌন হয়রানি, মারামারি, ছিনতাই, মাদকের সিন্ডিকেট রয়েছে। এ নিয়ে বিরোধও লেগেই থাকে। এতে বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে ঘুরতে আসা লোকজন বিপাকে পড়ে। মুক্তিযোদ্ধা পার্ক, ত্রিশ গোডাউন, বেলসপার্ক, জিলা স্কুল এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত দিন দিন বাড়ছে। এছাড়া ভাটিখানা, দপ্তরখানা, কাঠপট্টি, কাউনিয়া, পলাশপুর, কেডিসি, বিএম স্কুল, কলেজ-রোড, কাশিপুর, নথুল্লাবাদ, রূপাতলী, আমতলার মোড়, বাংলাবাজারে সক্রিয় বেশ কিছু কিশোর গ্যাং।
গ্যাংগুলো হচ্ছে-গরিয়াড় পাড়ের রিফাদ-রিয়াদ গ্রুপ, চৌমাথায় সাগর-শাহরুখ গ্রুপ, নিউ সার্কুলার রোডে জিহাদ গ্রুপ, বাংলাবাজারে মুন্না-সামির গ্রুপ, কালুশাহ সড়কে হিরা গ্রুপ, বটতলা এলাকায় স্টারলিং গ্রুপ, রাফসান, মেহেদী, সান গ্রুপ। পলিটেকনিক রোডে নাঈম-আজাদ ও জাফর গ্রুপ আমিরকুটির এলাকায় রাকিব, উজ্জল, অনিক, ইসরাফিল বাহিনী। কেডিসি এলাকার এনা-ওলু বাহিনী, চাঁদমারী এলাকার আল আমিন গ্রুপ, আবহাওয়া অফিস এলাকার রেদোয়ান, মতাসার এলাকায় কষাই আলামিন, তপন, কাকাশুরা এলাকায় শরিফ মাছুম ও রাসেল মুন্সি। খ্রিষ্টান কলোনির বাসিন্দা সুসাই-সজল। সাধুর বটতলার যাত্রা সোহাগ, কাউনিয়া হাউজিং এলাকায় ডোম মেহেদী, জানুকিসংহ রোডে ট্যাংকি সাগর, হুমায়ুন ও আকিব। কাউনিয়া মনসাবড়ির তলকা ও রেজাউল, বিসিক এলাকার রিফাত, মারুফ ও কসাই মামুন। বাগানবাড়ির মিল্টন ও রাহাত। হাওলাদার সড়কের রনি ও ভাগিনা মিজু, কাউনিয়ার হাজেরা খাতুন স্কুলের, ভাই সজিব, কাশিপুর ফিশারি রোডের ফিশারি সজিব, চৌমাথা এলাকার কদম, সাগরদি ও রিফাত। রুপাতলি এলাকায় কালা মুন্না, মিঠু, শাওন ও জুয়েল। কালিবাড়ী রোডের রাজিম, বিএম স্কুলের কইতর রানা, শাকিল, সম্রাট, নতুন বাজার এলাকার শাওন ও অপু। ল কলেজ এলাকার রনি ও রিয়াজ। কাউনিয়া মেইন রোডের জালিয়াবাড়ির পোলের কালা সুজন, দোলন, শুভ, মুরাদ, ডালিম, মাঝু ও সুমন। এছাড়াও পলাশপুরের পলাশ বাহিনী নামে কিশোর গ্যাং রয়েছে। এদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও অভিযোগ রয়েছে।
নারী নেত্রী ডা. মনিষা চক্রবর্তী বলেন, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়ে এসব ছেলেরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। পারিবারিক ও সামাজিকভাবে এদের নিয়ন্ত্রণ করা না হলে শুধু মামলা দিয়ে সংশোধন করা সম্ভব নয়।
কিশোর গ্যাংয়ের বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, আমরা অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নিচ্ছি। তাছাড়া পুলিশি তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। স্কুল-কলেজ চলাকালীন আমাদের টহল গাড়ির সংখ্যা বৃদ্ধি করেছি। প্রায় একই কথা বলেন, বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আল মামুন উল ইসলাম। এই ওসি বলেন, এদের আইনের আওতায় আনতে আমাদের কয়েকটি টিম কাজ করছে। এছাড়া গত মাসে কাশিপুর এলাকার একটি গ্রুপের সদস্যদের গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, কিশোর গ্যাং সদস্যদের তালিকা করা হয়েছে। শিগগিরই তাদের আইনের আওতায় আনতে আমরা কাজ শুরু করব। কিশোর গ্যাং সদস্যদের পেছনে যদি কোনো রাঘববোয়াল থাকে তাদেরও ধরা হবে।