
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলা–এর মাধবপাশা ব্রিজ থেকে মুশুরিয়া সিনিয়র আলিম মাদরাসা পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়ক দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। স্থানীয়দের দাবি, গত ৩৫ বছরে সড়কটির কোনো ধরনের বড় সংস্কার হয়নি। ফলে এটি এখন চলাচলের অযোগ্য ও চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন মুশুরিয়া, উচ্চগ্রাম, বাদলা ও গোয়ালদী মুশুরিয়া গ্রামের শত শত মানুষ যাতায়াত করেন। পাশাপাশি মাধবপাশা এলাকার বাসিন্দারা ঝালকাঠি, নবগ্রাম, বিনয়কাঠি ও গগন গ্রামে যেতে এই পথ ব্যবহার করেন। একসময় গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়ক হিসেবে পরিচিত থাকলেও বর্তমানে ভাঙাচোরা, খানাখন্দে ভরা ও ধুলাবালিতে আচ্ছন্ন অবস্থায় রয়েছে সড়কটি।
স্থানীয় প্রবীণদের ভাষ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ১৯৯০ সালে সড়কটিতে ইট সলিংয়ের কাজ হয়েছিল। এরপর আর কোনো সংস্কার বা পিচঢালাই হয়নি। দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে এসব গর্ত পানিতে ভরে গেলে ছোট যানবাহন চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
সড়কটিতে থাকা কয়েকটি কালভার্টের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। কোথাও রেলিং ভাঙা, কোথাও স্ল্যাব দেবে গেছে, আবার কোথাও পাশের মাটি সরে গিয়ে মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ফিরোজ ফরাজী বলেন, “কালভার্টগুলো এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ যে রাতে চলাচল করতে ভয় লাগে। যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”
ল
সড়কটির আশপাশে রয়েছে একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মুরগির খামার এবং গবাদিপশুর খামার। প্রতিদিন শতাধিক শিক্ষার্থী এই পথ দিয়ে স্কুল-কলেজে যাতায়াত করে। স্থানীয় বাসিন্দা মো. মাসুম বিল্লাহ বলেন, “২০০১ সাল থেকেই রাস্তাটি ভাঙাচোরা। বৃষ্টি হলে শিক্ষার্থীদের কাদা মাড়িয়ে যেতে হয়। অনেক সময় অভিভাবকরা সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে চান না।”
কৃষকরাও পণ্য পরিবহনে চরম সমস্যায় পড়ছেন। খামারের খাদ্য আনা ও উৎপাদিত পণ্য বাজারে নিতে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে।
সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে যাত্রীদের বিকল্প পথে যেতে হচ্ছে, যেখানে ভাড়া প্রায় তিনগুণ বেড়ে গেছে। তবুও পর্যাপ্ত যানবাহন পাওয়া যায় না। স্থানীয় বাসিন্দা সুমন জানান, আগে ঝালকাঠি–উজিরপুর ও এয়ারপোর্ট থানা এলাকার অনেক মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করতেন, এখন দুর্ঘটনা ও দুর্ভোগ বেড়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. কালাম মুন্সী বলেন, “সড়কটি সংস্কার ও পিচঢালাইয়ের জন্য আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু এখনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। বরাদ্দ পেলেই দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।”
এলাকাবাসীর জোর দাবি, দ্রুত সড়কটি পিচঢালাই ও ঝুঁকিপূর্ণ কালভার্টগুলো পুনর্নির্মাণ করা হোক। তা না হলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে এবং যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে বলে তারা মনে করছেন।