
মনপুরা প্রতিনিধি : ভোলার মনপুরায় প্রেমিককে বেঁধে রেখে তার প্রেমিকাকে রাতভর সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের হলেও এখন পর্যন্ত ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাতে উপজেলার ৩ নম্বর উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের উত্তর তালতলা নতুন বেড়িবাঁধ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রেমিক ও ধর্ষণের শিকার তরুণীকে উদ্ধার করে মনপুরা থানায় নিয়ে যায়।
পরে শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে ভুক্তভোগী তরুণী ছয়জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও চাঁদা দাবির অভিযোগে মনপুরা থানায় মামলা করেন।
মনপুরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ফরিদ উদ্দিন জানান, ধর্ষণের আলামত পরীক্ষার জন্য ভুক্তভোগী তরুণীকে ভোলা সদর হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
মামলার ছয় আসামির মধ্যে মাকছুদ ও আল-আমিনের নাম জানা গেলেও তদন্তের স্বার্থে অপর চার আসামির নাম প্রকাশে অপারগতা প্রকাশ করেছে পুলিশ। তবে জানা গেছে, প্রধান দুই আসামির বাড়ি উপজেলার উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রাসেলের ছেলে সজিবের সঙ্গে সিলেটের সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার এক তরুণীর দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিয়ের উদ্দেশ্যে প্রেমিকাকে নিয়ে মনপুরায় দাদা বাড়িতে আসেন সজিব। এ সময় বিয়ের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহের চেষ্টা চলছিল।
অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয় দুই ব্যক্তি মাকছুদ ও আল-আমিন বিষয়টি জানতে পেরে প্রথমে দুই লাখ টাকা এবং পরে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দিলে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ১২টার দিকে লঞ্চে উঠিয়ে দেওয়ার কথা বলে প্রেমিক যুগলকে বাড়ি থেকে বের করে নেওয়া হয়। পরে নতুন বেড়িবাঁধ এলাকায় নিয়ে গিয়ে প্রেমিক সজিবকে বেঁধে রেখে ওই তরুণীর ওপর সংঘবদ্ধ নির্যাতন চালানো হয়। এক পর্যায়ে সজিব পালিয়ে গিয়ে স্বজনদের খবর দিলে স্থানীয়রা ভুক্তভোগীকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। পরে ভোররাতে তরুণীকে সজিবের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়।
শুক্রবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশ প্রেমিক যুগলকে থানায় নিয়ে যায়।
প্রেমিক সজিব জানান, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তাদের সাত বছরের সম্পর্ক ছিল এবং বিয়ের উদ্দেশ্যেই তারা মনপুরায় আসেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
এ বিষয়ে ওসি মো. ফরিদ উদ্দিন বলেন,“সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে ছয়জনসহ আরও দুই থেকে তিনজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। বর্তমানে প্রেমিক যুগল থানা হেফাজতে রয়েছে।”