বরিশাল শহরের ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ভাঙার কাজ শুরু করেছে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন (বিসিসি)। শুক্রবার সকালে সদর রোডের তিনতলা দুটি ভবন ভাঙার মধ্য দিয়ে এই অভিযানের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।
দীর্ঘ ১০ বছর আগে ভবনগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হলেও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে সেগুলো অপসারণ করা সম্ভব হয়নি। ২০১৩ সালে করা এক জরিপে বরিশাল শহরের ৫৮ বর্গকিলোমিটার এলাকায় মোট ৩৫টি ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছিল সিটি কর্পোরেশন।
সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে, সদর রোডের বহুতল ওই দুটি ভবন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেয়াই কাজী মফিজুল ইসলাম কামালের দখলে ছিল। তিনি আওয়ামী লীগের বরিশাল-১ আসনের সাবেক এমপি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর শ্যালক। আওয়ামী লীগ শাসনামলে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে তিনি ভবনগুলোর নিচতলায় দোকান ভাড়া দিয়ে দীর্ঘদিন দখলে রাখেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
একটি ভবনের মালিক নজরুল ইসলাম ‘রূপালী বাংলাদেশ’কে জানান, তাঁর চাচা উলফাত হাজি ও শুককুর হাজি ১৯৬০ সালে একটি এবং ৩০ বছর আগে আরেকটি ভবন নির্মাণ করেন। ২০১৩ সালে একটি ভবনে ফাটল দেখা দিলে সিটি কর্পোরেশন সেটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে। কিন্তু প্রভাবশালী ভাড়াটেরা দখল ছাড়তে অস্বীকৃতি জানায়। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর তিনি ভবন ভাঙার জন্য ৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা সিটি কর্পোরেশনে জমা দেন।
সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাস বলেন, “উলফাত ও শাকুর ম্যানশন নামে দুটি ভবনের ভাড়াটেদের আমরা একাধিকবার নোটিস দিয়েছি। তারা আদালতে গিয়েছিল, তবে আমরা কোর্টের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে রায় পেয়েছি। শুক্রবার সকালে ভবন ভাঙার কাজ শুরু হয়েছে। আশা করছি, সাত দিনের মধ্যে কাজ শেষ হবে।”
নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী জানান, “সদর রোডের দুটি ভবন ছাড়াও নগরের কাউনিয়া, আগরপুর, জানুকি সিংহ রোড ও ফজলুল হক অ্যাভিনিউয়ের আরও ৩৪টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ধ্বংসের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কিছু ভবন অনুমোদনহীনও।”
বিসিসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পর্যায়ক্রমে সব ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ভেঙে ফেলার মাধ্যমে বরিশাল শহরকে নিরাপদ ও আধুনিক নগর হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েছে সিটি কর্পোরেশন।
হেড অফিস: ৩৯ দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা।
বরিশাল অফিস: হাবিব ভবন, ১১৮ সদর রোড, বরিশাল।
মোবাইল : ০১৭৪২-২৮০৪৯৮,
মেইল: dailybarishalsangbad@gmail.com