
বরিশাল প্রতিনিধি: বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ চিকিৎসা নিতে আসা এক শিশুকে থাপ্পড় মারার অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালের এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে।
ইনজেকশন দেওয়ার সময় ভয় পেয়ে নড়াচড়া করায় শিশুটিকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার স্বজনরা। ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় অভিযুক্ত কর্মচারীকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
ভুক্তভোগী শিশুটির নাম রিমন। সে পটুয়াখালী জেলা-র বাসিন্দা। জানা গেছে, দুর্ঘটনায় তার হাতের একটি আঙুল কেটে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে উন্নত চিকিৎসার জন্য শুক্রবার রাতে তাকে শেবাচিম হাসপাতালে আনা হয়।
স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে আনার পর দীর্ঘ সময় শিশুটিকে অপেক্ষা করতে হয়। প্রায় ৯ ঘণ্টা পর তার চিকিৎসা শুরু হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসকরা জানান, বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া আঙুলটি আর জোড়া লাগানো সম্ভব নয়।
এরপর চিকিৎসার অংশ হিসেবে শিশুটিকে ইনজেকশন দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়। এ সময় ইনজেকশনের ভয়ে রিমন চিৎকার করে এবং নড়াচড়া করতে থাকে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অর্থোপেডিক্স বিভাগের অপারেশন থিয়েটারের চিকিৎসকের সহকারী শাহীন (নাজমুল) তার গালে থাপ্পড় মারেন বলে অভিযোগ।
পরিবারের সদস্যরা জানান, থাপ্পড়ের পর শিশুটি কান্না শুরু করে। পরে তার অভিভাবকরা গিয়ে দেখেন রিমনের গালে স্পষ্ট আঙুলের ছাপ রয়েছে। তাদের দাবি, থাপ্পড়টি এত জোরে মারা হয়েছিল যে শিশুটির চোখের কাছেও রক্ত জমাট বাঁধে।
এ ঘটনার প্রতিবাদ করতে গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে সেখান থেকে বের করে দেন বলেও অভিযোগ করেন স্বজনরা। বিষয়টি জানাজানি হলে হাসপাতালে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম মশিউল মুনীর জানান, ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় অভিযুক্ত কর্মচারী শাহীন (নাজমুল)কে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।