
বরিশাল প্রতিনিধি: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে নারী সহপাঠীদের অনুমতি ছাড়া আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরিশাল মহানগর পুলিশ–এর বন্দর থানার ওসি ইসমাইল হোসেন।
আটক শিক্ষার্থীর নাম তুর্য্য প্রিনাম বাড়ৈ। তিনি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়–এর রসায়ন বিভাগের ২০১৯–২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
এ ঘটনার প্রতিবাদ ও দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে সাধারণ শিক্ষার্থী এবং সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী শিক্ষার্থীরা পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর জমা দেন।
রসায়ন বিভাগের শিক্ষক মো. মিরাজ জানান, মঙ্গলবার ইফতারের পর এক নারী সহপাঠীর অনুমতি ছাড়া তার ছবি মোবাইল ফোনে ধারণ করেন তুর্য্য। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে ওই ছাত্রী ফোনটি পরীক্ষা করলে সেখানে আরও কয়েকজন নারী শিক্ষার্থীর আপত্তিকর ছবি পাওয়া যায়। পরে অন্য শিক্ষার্থীরাও তাদের ব্যক্তিগত ছবি ফোনে থাকার বিষয়টি শনাক্ত করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, তুর্য্য দীর্ঘদিন ধরে নারী সহপাঠীদের ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও নিজের ডিভাইসে সংরক্ষণ করতেন। জব্দ করা ডিভাইসে কিছু ছবি ও ভিডিও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে সম্পাদিত বলেও অভিযোগ রয়েছে। এসব ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে পারে—এই আশঙ্কায় ভুক্তভোগীরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ছাত্রী বলেন, পূজা ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে তোলা ব্যক্তিগত ছবি তার ফোনে পাওয়া গেছে—যা তাদের জন্য উদ্বেগজনক।
এ বিষয়ে বন্দর থানার ওসি ইসমাইল হোসেন বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মামলা করার কথা জানিয়েছে। এজাহার পেলে তদন্তের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর রাহাত হোসাইন ফয়সাল জানান, অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর একাডেমিক সব কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়নবিরোধী সেলকে তিন দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি, ছবি বা ভিডিও অনলাইনে ছড়ানো হয়েছে কি না এবং সংশ্লিষ্ট যোগাযোগমাধ্যমের সঙ্গে সম্পৃক্ততা যাচাই করতে পুলিশ কাজ করছে।