বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় চারজন শিক্ষার্থীকে ছয় মাসের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। একই ঘটনায় আরও ২১ জন শিক্ষার্থীকে অভিভাবকসহ মুচলেকা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বুধবার (৮ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মো. মুহসিন উদ্দীনের স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা হলেন— অ্যাকাউন্টিং বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তরিকুল ইসলাম নয়ন, মার্কেটিং বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শাহারিয়ার শাওন, অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস (AIS) বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. শাওন শেখ, এবং ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাজ্জাদ হোসেন।
আদেশে বলা হয়েছে, তরিকুল ইসলাম নয়নকে ছয় মাসের বহিষ্কারাদেশ অথবা ৪০ হাজার টাকা জরিমানা; শাহরিয়ার শাওনকে ছয় মাসের বহিষ্কার বা ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
অন্যদিকে শাওন শেখ ও সাজ্জাদ হোসেনকে ছয় মাস অথবা এক সেমিস্টারের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।
একই ঘটনায় মার্কেটিং বিভাগের ১০ জন এবং অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস (AIS) বিভাগের ১১ জন শিক্ষার্থীকে তাদের অভিভাবকসহ আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে উপস্থিত হয়ে মুচলেকা দিতে বলা হয়েছে।
মার্কেটিং বিভাগ (১০ জন):
আফ্রিদি হাসান, আজিজুল ইসলাম চয়ন, আলিফ হোসাইন নয়ন, মো. আশিক ইলাহি, মো. সবুজ মিয়া, হাজ্জাজ হোসেন মিশন, মো. তাহমিদ হোসেন সিয়াদ, মোহাম্মদ আরাফাতুন নূর হৃদয়, মো. শাহাদাত হোসেন ও আবুল কালাম আজাদ রুমন।
অর্পণ রায়, আসিফ আহমেদ, প্রীতম মল্লিক, বর্ণ বরণ সরকার, আশরাফুল হক চৌধুরী, চিরঞ্জিত কুমার সাহা, লাদেন মিয়া (সাদমান), কল্যাণ মজুমদার, সেফাত আহমেদ খান, মো. আব্দুল গাফফার ও সুরুজ আহমেদ শিশির।
গত ১২ সেপ্টেম্বর বিকেলে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস ও মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন বিটাক ভবনের নির্মাণাধীন বালুর মাঠে সংঘর্ষে উপাচার্যসহ অন্তত ১৪ শিক্ষার্থী আহত হন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মো. মুহসিন উদ্দীন বলেন— ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে একাডেমিক কাউন্সিল শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে।