
বরিশালে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের একটি ঋণ বিতরণকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে, জাল তথ্য ব্যবহার করে দুই লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকার ঋণ অনুমোদন করেছে সরকারি ব্যাংকটি। যে ভোটার আইডি কার্ড দিয়ে ঋণ অনুমোদন করা হয়েছে—সেটিতে তথ্য একজনের হলেও ফর্মে দেয়া ছবিটি ছিল আরেক জনের ।
জানা যায়, ২০২৫ সালের ৭ জানুয়ারি সুমন হাওলাদার নামে এক ব্যক্তির ভোটার আইডির তথ্য ব্যবহার করে বরিশাল শাখা থেকে ঋণ অনুমোদন করা হয়। অথচ সুমন হাওলাদার নিজেও জানতেন না তার নামে কোনো ঋণ নেয়া হয়েছে। আট মাস পর তিনি অন্য একটি ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে গেলে জানতে পারেন, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের বরিশাল শাখায় তার নামে নেওয়া ঋণের কারণে তিনি ‘ডিফল্টার’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন।
পরে বিষয়টি জানতে ব্যাংকে গেলে দেখা যায়, তার ভোটার আইডির তথ্য ঠিক থাকলেও ফর্মে দেয়া ছবিটি অন্য কারও। বিষয়টি তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ব্যাংকের প্রধান শাখায় অবগত করলে নড়েচড়ে বসে কর্তৃপক্ষ।
এবিষয়ে সুমন হাওলাদার জানান, তিনি ঢাকা সিটি কর্পোরেশন কর্মরত রয়েছেন। তার ব্যক্তিগত প্রয়োজনে লোনের আবেদন করতে গেলে বিষয়টি তার নজরে আসে এবং সে ব্যাংকে অবগত করেন। পরবর্তীতে ব্যাংক থেকে লোকজন গিয়ে তার মাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।
খোঁজ নিয়ে জানাযায়, ওই ঋণ অনুমোদনে ব্যাংকের তিন কর্মকর্তার স্বাক্ষর রয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে—সরকারি ব্যাংকটি কি যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই ঋণ অনুমোদন করছে?
ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে ব্যাংকটির বরিশাল শাখায় গেলে বেরিয়ে আসে আরেকটি চাঞ্চল্যকর তথ্য। ব্যাংকটির সিনিয়র পিন্সিপাল অফিসার তামান্না আফরিন জানান, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দায় এড়াতে ঋণের পুরো দায়ভার তার উপর চাপিয়ে দিচ্ছেন। তার অভিযোগ, ব্যবস্থাপক মো: জসিম উদ্দিন পিয়ন রিপন মণ্ডলকে দিয়ে একটি লিখিত অঙ্গীকারনামায় তার বিরুদ্ধে দায় স্বীকার করিয়ে নেন।
এসময় পিয়ন রিপন মন্ডলকে ব্যাংকে খোজ করা হলে জানাযায় তাকে দুদিন আগে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে। এসময় রিপন মন্ডলের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ব্যবস্থাপক জোর করে তার মাধ্যমে লিখিয়ে নেন। তিনি আরও জানান, এর আগেও একই ধরনের ঘটনা এই শাখায় ঘটেছে।
এবিষয় শাখা ব্যবস্থাপক মো: জসিম উদ্দিন বলেন, “লোনের বিষয়টি সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। এ বিষয়ে অডিট টিম তদন্ত শুরু করেছে।” তবে তামান্না আফরিনের বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এদিকে ব্যাংকের এজিএম জিয়াউল ইসলাম জানান, “ইতিমধ্যে অডিট টিম তদন্ত করছে। দোষীদের অবশ্যই বিচারের আওতায় আনা হবে।” তবে এত বড় ভুল কিভাবে হলো—এ বিষয়ে কোনো সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি তিনি।
অন্যদিকে একটি সরকারি ব্যাংকে এ ধরনের জালিয়াতি গ্রাহকদের আস্থায় বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে। আর্থিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের ঘটনায় শুধু গ্রাহকই নয়, দেশের আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতাও প্রশ্নের মুখে পড়ে।