
বরিশাল নগরীর ফলপট্টি এলাকার একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষ থেকে এক বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে নগরীর ফলপট্টি এলাকায় অবস্থিত ‘হোটেল পার্ক’ নামের আবাসিক হোটেলের স্টাফ রুম থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
নিহত ব্যক্তির নাম আব্দুল হাকিম হাওলাদার (৬০)। তিনি বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ কাজলাকাঠি দাড়িয়াল ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং আরব আলী হাওলাদারের ছেলে। তিনি দীর্ঘ চার দশক ধরে ওই আবাসিক হোটেলে গার্ড হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
হোটেল কর্তৃপক্ষ ও কর্মচারীদের সূত্রে জানা যায়, আব্দুল হাকিম হাওলাদার কয়েকদিন ধরে ঠান্ডাজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন এবং শারীরিকভাবে কিছুটা অসুস্থ ছিলেন। বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে তিনি নিয়মিত কর্মচারীদের সঙ্গে রাতের খাবার গ্রহণ করেন। এরপর খাবার শেষে তিনি হোটেলের স্টাফ রুমে প্রবেশ করেন। তবে এরপর আর বাইরে বের হননি।
পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে স্বাভাবিক সময়েও তাকে দায়িত্ব পালন করতে না দেখে সহকর্মীদের সন্দেহ হয়। পরে তার কক্ষে একাধিকবার ডাকাডাকি করা হলেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। একপর্যায়ে বিষয়টি হোটেল কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে তারা কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে কক্ষের দরজা খুলে ভেতর থেকে আব্দুল হাকিম হাওলাদারের নিথর দেহ উদ্ধার করে। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
হোটেলটির মালিক মাহমুদুল হাসান শাওন জানান, আব্দুল হাকিম প্রায় ৪০ বছর ধরে আমাদের হোটেলে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে আসছিলেন। বুধবার রাত ৯টার দিকে খাবার খেয়ে তিনি নিজ কক্ষে ঢোকেন। এরপর আর বের হননি। পরদিন ডাকাডাকি করে সাড়া না পেয়ে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
কোতয়ালি মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সেলিম জানান, প্রাথমিকভাবে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যেতে পারেন। তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
দীর্ঘদিনের একজন বিশ্বস্ত কর্মচারীর আকস্মিক মৃত্যুতে হোটেল কর্তৃপক্ষ ও সহকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।