
বানারীপাড়া প্রতিনিধি: বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার ইলুহার ইউনিয়নে মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে জাল দলিল সম্পাদনের মাধ্যমে সম্পত্তি দখলের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ইলুহার ইউনিয়নের বাসিন্দা মরহুম আঃ হক সুফি (মুন্সী)–এর জ্যেষ্ঠ পুত্র আব্দুল হামেদ সুফি ২০১৪ সালের ২০ মার্চ মৃত্যুবরণ করেন। কিন্তু মৃত্যুর ১ মাস ৩ দিন পর, অর্থাৎ ২৩ এপ্রিল ২০১৪ তারিখে তাকে জীবিত দেখিয়ে চাখার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ৫১০ নম্বর একটি জমির দলিল সম্পাদন করা হয়।
পরিবারের অভিযোগ, ওই দলিলে অজ্ঞাত এক ব্যক্তিকে হামেদ সুফি হিসেবে হাজির করে স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে এবং এভাবেই তার সম্পত্তি আত্মসাৎ করার চেষ্টা চালানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ইলুহার ইউনিয়নের বৃহত্তর জনতা বাজার এলাকায় মরহুম আঃ হক সুফি (মুন্সী)-এর নামে খাস জমিতে নির্মিত একটি ভিটি (দোকানঘর) ছিল। পিতার মৃত্যুর পর হামেদ সুফি সেটি পরিচালনা করতেন। অসুস্থতার কারণে তিনি তার দুঃসম্পর্কের আত্মীয় ও প্রতিবেশী আঃ ছালাম সুফির কাছে ভাড়ায় দেন।
হামেদ সুফির মৃত্যুর পর তার ওয়ারিশদের অবগত না করে, ২৫ নভেম্বর ২০১৪ তারিখে তার স্ত্রী রাহেলা বেগমের কাছ থেকে স্ট্যাম্পের মাধ্যমে নামমাত্র টাকায় ভিটি লিখে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, সরকারি বা ১ নম্বর খতিয়ানভুক্ত খাস জমি ক্রয়-বিক্রয় আইনত সম্পূর্ণ অবৈধ।
মৃত্যু সনদ নিয়েও অভিযোগ
হামেদ সুফির মৃত্যুর পর তার ভাই মজিবর সুফি আইনগতভাবে মৃত্যু সনদ সংগ্রহ করলে, ওই সনদের বিরুদ্ধে বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আঃ ছালাম সুফি ও তার সহযোগীরা অভিযোগ দায়ের করেন বলেও জানা গেছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, মৃত হামেদ সুফির জমি ও ভিটি দখলের উদ্দেশ্যে আঃ ছালাম সুফি (৫০), তার ছেলে মিজানুর রহমান সৌরভ (৩৫), মেয়ের জামাতা জাহিদ রানা (৩০) ও আশিক সুফি (২৬)—পরিকল্পিতভাবে মামলা, হুমকি ও নানা ষড়যন্ত্রে জড়িত রয়েছেন।
এ অবস্থায় হামেদ সুফির ভাই মজিবর সুফি, ভাতিজা ইমরান সুফি, শাওন সুফি ও মিজান সুফি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের দাবি,
মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে দলিল সম্পাদনের মতো ভয়াবহ অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।