রুপন কর অজিত: বিট বাণিজ্যের অভিযোগ যেন পিছু ছাড়ছে না বরিশাল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের। অতীতে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠলেও এবার অভিযোগ উঠেছে এক সিপাইয়ের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে, বরিশালের বিভিন্ন খুচরা ও ডিলার পর্যায়ের মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসিক ‘বিট’ সংগ্রহ করেন সিপাই নুর ইমাম আহমেদ।
অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে তিনি বরিশাল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে যোগদান করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই তার জীবনযাত্রায় দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখা যায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিপাই পদে থাকলেও তিনি নিজেকে জেলা টিম পরিচালনাকারী হিসেবে দাবি করেন।
এমন তথ্যের ভিত্তিতে অনুসন্ধানে নামে আমাদের টিম। অনুসন্ধানের শুরুতেই উঠে আসে তার একাধিক মোবাইল ফোন ব্যবহারের বিষয়টি। জানা যায়, তিনি একাই ৪ থেকে ৫টি মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন, যার কয়েকটি মাদক ব্যবসায়ী বা আটক আসামিদের।
চাকরিতে যোগদানের আগে আইফোন ব্যবহার না করলেও বর্তমানে তিনি একটি আইফোন ব্যবহার করছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি দপ্তরের এক কর্মকর্তার হলেও ব্যবহার দেখে সেটি তার নিজের বলেই মনে হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার কার্যক্রম ও ব্যক্তিগত জীবনযাত্রায় আর্থিক স্বচ্ছলতার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। এতে প্রশ্ন উঠেছে—তার এই অর্থের উৎস কী?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে অনুসন্ধান টিম যায় হিরণ নগর এলাকায়। সেখানে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, ‘কুত্তা কবির’ নামে পরিচিত এক মাদক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে তিনি নিয়মিত অর্থ নেন।
এছাড়া নগরীর রিফিউজি কলনীর আরমান, রফিক, কেডিসি এলাকার আরও কয়েকজন, এবং সোহাগী, জসীম, কমলাসহ কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী ‘চহড়া রাসেল’-এর কাছ থেকেও মাসিক ভিত্তিতে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, এসব অর্থের বিনিময়ে সংশ্লিষ্ট মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয় না। এমনকি অভিযানের আগে তিনি সরাসরি ঘটনাস্থলে গিয়ে বা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আগাম তথ্য দিয়ে সতর্ক করেন বলেও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
মোবাইল ফোন ব্যবহারের বিষয়ে অনুসন্ধানে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। জানা যায়, তার ব্যবহৃত একটি গ্রামীণফোন নম্বর তার নিজের নামে নিবন্ধিত নয়; বরং সেটি একজন মাদক বিক্রেতার নামে নিবন্ধন করা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং এসবের কোনো সত্যতা নেই বলে দাবি করেন।
এ বিষয়ে বরিশাল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. তানভীর হোসেন খানের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে, অভিযোগ প্রমানিত হলে যথাযথ আইনতগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।
তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—একজন সিপাই হয়ে তিনি কীভাবে এত বড় কার্যক্রম পরিচালনা করছেন? এর পেছনে কি আরও প্রভাবশালী কোনো মহল জড়িত?
এ বিষয়ে বিস্তারিত নিয়ে আসছে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের দ্বিতীয় পর্ব।
হেড অফিস: ৩৯ দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা।
মোবাইল : ০১৭৪২-২৮০৪৯৮, মেইল: dailybarishalsangbad@gmail.com
© 2026 বরিশাল সংবাদ | Barisal Sangbad