
বরিশাল সদর প্রতিনিধি : ইসলামি ও সমমনা দলগুলোর নির্বাচনি জোট ভেঙে যাওয়ায় বরিশাল বিভাগজুড়ে ভোটের মাঠে বড় ধাক্কা খেয়েছে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও জামায়াতে ইসলামী। একসময় যে ৭টি আসনে বিএনপির সঙ্গে কঠিন লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, সেসব আসনেই এখন পিছিয়ে পড়েছে এই দুই দল। এর প্রভাব পড়েছে পুরো বরিশাল বিভাগের ২১টি আসনেই। বিপরীতে আগের তুলনায় জয়ের সম্ভাবনা দ্বিগুণ হয়েছে বিএনপি ও ধানের শীষের প্রার্থীদের।
🗳️ জোট ভাঙার পটভূমি
নির্বাচনের শুরুতে ভোটারদের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রে ছিল ইসলামি ও সমমনা ৮ দলের ঐক্য, যেখানে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন ছিল শীর্ষ দুটি দল। পরবর্তীতে এনসিপি, এবি পার্টিসহ আরও কয়েকটি দল যুক্ত হয়ে জোটটি ১১ দলে রূপ নেয়।
কিন্তু আসন বণ্টন নিয়ে মতবিরোধের জেরে শুক্রবার রাজধানীতে সংবাদ সম্মেলন করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২৬৮ আসনে এককভাবে নির্বাচন করার ঘোষণা দেয়। এর আগে জামায়াতে ইসলামী জোটভুক্ত দলগুলোর আসন তালিকা প্রকাশ করে, যেখানে ইসলামী আন্দোলনের জন্য ৪৫টি আসন ছাড়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়। এ প্রস্তাবে অসন্তোষ থেকেই জোট ভেঙে যায়।
📍 বরিশালে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ৭ আসনে
জোট ভাঙনের সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে বরিশাল অঞ্চলের ৭টি নির্বাচনি আসনে, যেখানে জোটবদ্ধ অবস্থায় জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন শক্ত অবস্থানে ছিল।
🔹 পিরোজপুর-১ (সদর–ইন্দুরকানী–নাজিরপুর)
জামায়াত প্রার্থী মাসুদ সাঈদী (মরহুম দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পুত্র) জোট থাকলে এগিয়ে থাকতেন। ইসলামী আন্দোলন সরে যাওয়ায় এখানে বিএনপির সঙ্গে লড়াই কঠিন হয়ে পড়েছে।
🔹 পিরোজপুর-২ (ভান্ডারিয়া–কাউখালী–নেসারাবাদ)
শামিম সাঈদীকে কেন্দ্র করে শক্ত অবস্থান তৈরি হলেও জোট ভাঙায় সুবিধাজনক অবস্থানে চলে গেছে বিএনপি প্রার্থী আহম্মেদ সোহেল সুমন মঞ্জু।
🔹 পটুয়াখালী-২ (বাউফল)
জামায়াতের ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের জন্য চরমোনাইর ভোট ছিল জয়ের বড় নিয়ামক। জোট ভাঙায় সেই সমীকরণ ভেঙে পড়েছে।
⚠️ ইসলামী আন্দোলনও বিপাকে
জোট ভাঙনে শুধু জামায়াত নয়, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও বড় চ্যালেঞ্জে পড়েছে।
🔹 পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়িয়া)
সাবেক এমপি রুস্তুম আলী ফরাজীর ব্যক্তিগত ভোটব্যাংকের সঙ্গে জামায়াতের ভোট যুক্ত হয়ে শক্ত অবস্থান তৈরি হয়েছিল। জোট ভাঙায় সেই সুবিধা আর থাকছে না।
🔹 বরিশাল-৫, বরিশাল-৬ ও পটুয়াখালী-৪
এই তিন আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীদের ভালো অবস্থান থাকলেও জামায়াতের ভোট বিচ্ছিন্ন হওয়ায় লড়াই কঠিন হয়ে উঠেছে।
📉 ১৪ আসনেও কমেছে প্রভাব
উল্লিখিত ৭টি আসনের পাশাপাশি বরিশাল বিভাগের বাকি ১৪টি আসনেও ইসলামী আন্দোলন ও জামায়াতের প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পুরো বিভাগে তারা এখন হাতে গোনা ১–২টি আসন পাবে কি না, তা নিয়েই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
🗣️ দলগুলোর প্রতিক্রিয়া
ইসলামী আন্দোলনের নায়েবে আমির মুফতি মুহাম্মদ ফয়জুল করিম বলেন—
“আল্লাহ যা করবেন, ভালো’র জন্যই করবেন। আমরা ক্ষমতার রাজনীতি নয়, নীতির রাজনীতি করি। ইসলাম কায়েমের সংগ্রামই আমাদের লক্ষ্য।”
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও বরিশাল সদর আসনের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মুয়াজ্জম হোসাইন হেলাল বলেন—
“এখনো সময় শেষ হয়নি। ইনশাআল্লাহ শেষ পর্যন্ত সব ঠিক হয়ে যাবে।”
📊 রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণ
জোট ভাঙনের ফলে বরিশাল বিভাগে ভোটের লড়াই কার্যত দ্বিমুখী হয়ে পড়েছে—একদিকে বিএনপি, অন্যদিকে বিভক্ত ইসলামি দলগুলো। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে বড় কোনো সমঝোতা না হলে, বরিশাল বিভাগে বিএনপির জয়রথ আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।