
বাংলাদেশে এইচআইভি/এইডস সংক্রমণ ধীরে ধীরে বাড়ছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও এই মরণব্যাধির বিস্তার উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছাতে শুরু করেছে। দেশের বিভিন্ন জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্কবার্তা দিচ্ছেন।
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (শেবাচিম) কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে জানা গেছে, গত এক বছরে জেলায় ২০ জন এইচআইভি পজিটিভ রোগী শনাক্ত হয়েছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, তাদের মধ্যে ১১ জনই শিক্ষার্থী।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, নতুন রোগীর সংখ্যা গত বছরের তুলনায় ৩৯ শতাংশ বেড়েছে। সংক্রমিতদের বড় একটি অংশ ঝুঁকিপূর্ণ আচরণে যুক্ত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এইডস/এসটিডি প্রোগ্রামের তথ্য অনুযায়ী—
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় যক্ষ্মা, কুষ্ঠ ও এইডস নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি (টিবিএল অ্যান্ড এএসপি) জানায়—২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত দেশে নতুন করে প্রায় ২ হাজার ব্যক্তি এইচআইভিতে আক্রান্ত হয়েছেন। আগের বছর এ সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৪৩৮ জন।
একই সময়ে ২০০ জন এইডসে মারা গেছেন, যা আগের বছরের তুলনায় বেশি।
এইডস/এসটিডি প্রোগ্রামের ম্যানেজার (ডেটা ও আইটি) আলাউদ্দীন চৌধুরী জানান—
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন—ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ, নিরাপদ যৌনচর্চার অভাব, তথ্য-অজ্ঞতা এবং সামাজিক লজ্জা সংক্রমণ বাড়ার বড় কারণ।
বিশ্ব এইডস দিবস সামনে রেখে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়—
বাংলাদেশে এখনো এইডস মহামারির পর্যায়ে না পৌঁছালেও সংক্রমণের গতি উদ্বেগজনক।
বরিশাল ও সিরাজগঞ্জসহ কিছু জেলায় পরিস্থিতি আরও ঘনিষ্ঠ নজরদারির দাবি রাখে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন—
এইডস প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।