শীতের শুরুতেই দক্ষিণাঞ্চলের নদনদী দ্রুত নাব্য হারাতে শুরু করেছে। বরিশাল, মেহেন্দিগঞ্জ, হিজলা, পটুয়াখালী, ভোলা—সব রুটেই ডুবোচর জেগে ওঠায় ঢাকা–বরিশালসহ অভ্যন্তরীণ নদীপথ এখন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে।
নাব্য সংকটের কারণে প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও যাত্রীবাহী লঞ্চ ডুবোচরে আটকে যাচ্ছে। এতে যাত্রীভোগান্তি যেমন বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কাও।
ঢাকা–বরিশাল রুটে একটি লঞ্চ চলতে স্বাভাবিকভাবে কমপক্ষে ৩ মিটার গভীরতা প্রয়োজন।
কিন্তু বাস্তবে এখানে—
এমন পরিস্থিতিতে লঞ্চ মাস্টারদের ধীরগতিতে বিভিন্ন কৌশল নিয়ে ডুবোচর এলাকা পার হতে হচ্ছে। প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো লঞ্চ আটকে যাচ্ছে তলদেশে।
নাব্য সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করায় বরিশাল অঞ্চলের একাধিক রুট একেবারেই বন্ধ হয়ে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে—
আগে বরিশাল থেকে অন্তত ২০টি রুটে ২০০ লঞ্চ চলত। এখন চলছে মাত্র ৩০–৩৫টি।
এমভি শুভরাজ লঞ্চের মাস্টার বেলাল বলেন:
“প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো স্থানে লঞ্চ ডুবোচরে আটকে যায়। গত রাতেও বামনীর চর এলাকায় আটকে পড়েছিলাম।”
এক যাত্রী সুমন হাওলাদার বলেন:
“ঘুমের মধ্যে হঠাৎ ধাক্কা অনুভব করি। দেখি লঞ্চ চরে আটকে আছে। প্রায় আধা ঘণ্টা অবস্থান করতে হয়।”
পরিবেশ ও জনসুরক্ষা ফোরামের আহ্বায়ক শুভংকর চক্রবর্তী বলেন—
“নাব্য সংকট দূর করতে দ্রুত ড্রেজিং জরুরি। ড্রেজিংয়ের বালি আবার নদীতেই ফেলে নাব্য আরও কমিয়ে ফেলা হয়—এটা বন্ধ করতে হবে।”
বিআইডব্লিউটিএ বরিশাল অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মামুন উর রশিদ জানান:
“ঢাকা–বরিশাল রুটের কয়েকটি স্থানে নাব্য সংকট দেখা দিয়েছে। ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে পথ সচল রাখতে কাজ চলছে।”
বরিশাল বিভাগের নদীগুলো দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতি, যোগাযোগ ও যাত্রী চলাচলের প্রধান প্রাণশক্তি। কিন্তু নাব্য সংকট এখন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ঢাকা–বরিশাল রুটে প্রতিদিন লঞ্চ আটকে যাওয়া একটি বড় বিপদের ইঙ্গিত।
যদি দ্রুত কার্যকর ড্রেজিং না করা হয়—
👉 দক্ষিণাঞ্চলের নদীপথ একসময় পুরোপুরি অচল হয়ে যাবে।
👉 যাত্রীদের ভোগান্তি আরও বাড়বে।
👉 অর্থনীতি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
হেড অফিস: ৩৯ দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা।
বরিশাল অফিস: হাবিব ভবন, ১১৮ সদর রোড, বরিশাল।
মোবাইল : ০১৭৪২-২৮০৪৯৮,
মেইল: dailybarishalsangbad@gmail.com