
বরগুনা প্রতিনিধি: বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলা–তে ফাঁদ পেতে দীর্ঘদিন ধরে হরিণ শিকারের অভিযোগে মো. হানিফা নামে এক ব্যক্তি হাতেনাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাকে তালাক দিয়েছেন তার স্ত্রী শাহীনুর বেগম (৪০)। ঘটনাটি ঘটে গত মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুপুরে।
এর আগে সোমবার (২ মার্চ) রাত আড়াইটার দিকে পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের বাদুরতলার খাল এলাকা থেকে দুটি জবাই করা হরিণ ও হরিণ শিকারের ফাঁদসহ মো. হানিফাকে আটক করা হয়। আটক হানিফা পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের হাঁড়িটানা গ্রামের আবুল বাশারের ছেলে। তার স্ত্রী শাহীনুর পাথরঘাটা পৌর শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শাহ আলমের মেয়ে। বিয়ের পর দীর্ঘদিন ধরে তারা ওই ওয়ার্ডেই বসবাস করছিলেন।
পাথরঘাটা পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ও পৌর শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি আবদুস সালাম শরীফ জানান, হানিফা আগে ছোট ট্রলারে মাছ ধরতেন। তবে পরে তিনি হরিণ শিকারে জড়িয়ে পড়েন। দুটি জবাই করা হরিণসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে স্ত্রী শাহীনুর তাকে তালাক দেন। তালাকনামার অনুলিপি পাথরঘাটা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বরাবরে ডাকযোগে পাঠানো হয়েছে।
বন বিভাগের পাথরঘাটা রেঞ্জ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্টগার্ড ও বন বিভাগের পাথরঘাটা সদর বিটের বনপ্রহরীদের যৌথ অভিযানে বিষখালী নদী সংলগ্ন বাদুরতলা খাল এলাকা থেকে নয়টি হরিণ শিকারের ফাঁদসহ দুটি জবাই করা হরিণ উদ্ধার করা হয়। এ সময় একটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলারসহ হানিফাকে আটক করা হয়।
ঘটনার পর পাথরঘাটা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. পনির শেখ ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে হানিফাকে এক বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। আদালতের নির্দেশে উদ্ধার করা হরিণ দুটির চামড়া ও শিং সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং মাংসে কেরোসিন মিশিয়ে মাটি চাপা দেওয়া হয়। বন বিভাগের ধারণা, হরিণ দুটি হরিণঘাটা সংরক্ষিত বন এলাকা থেকে শিকার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বন বিভাগের পাথরঘাটা সদর বিট কার্যালয়ের বাগান মালি জহিরুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার হানিফা তার বোনজামাই। দীর্ঘদিন ধরে তাকে হরিণ শিকার থেকে সরে আসতে বলা হলেও তিনি তা শোনেননি। হরিণসহ ধরা পড়ায় সামাজিক ও পারিবারিক সম্মানের কথা বিবেচনা করে তার বোন শাহীনুর তালাকের সিদ্ধান্ত নেন।
তবে একাধিকবার চেষ্টা করেও শাহীনুর বেগমের বক্তব্য পাওয়া