
দীর্ঘ প্রায় তিন বছর ধরে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে আত্মগোপনে থাকা বরিশালের আলোচিত ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি আব্দুল্লাহ আল আহাদ (৪০) অবশেষে র্যাব-৮ এর হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন। রাজধানীর উত্তরা এলাকা থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে তাকে আটক করা হয়। এই গ্রেপ্তার আবারও প্রমাণ করেছে—অপরাধী যত প্রভাবশালীই হোক, আইনের হাত থেকে চিরকাল রেহাই পাওয়ার সুযোগ নেই।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃত আহাদ বরিশাল নগরীর কাশিপুর এলাকার মুক্তার বাড়ির বাসিন্দা এবং আলাউদ্দিন মিয়ার ছেলে। ঘটনার পর থেকেই সে একের পর এক অবস্থান পরিবর্তন করে আত্মগোপনে ছিল এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিভ্রান্ত করতে নানা কৌশল অবলম্বন করে। আধুনিক গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত তার অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেপ্তার নিশ্চিত করে র্যাব-৮। গ্রেপ্তারের পর আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে আহাদকে বরিশাল আদালতে হাজির করা হলে সেখানে ঘটে আরেকটি গুরুতর ও উদ্বেগজনক ঘটনা।
আদালত থেকে জেলে নেওয়ার সময় দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকরা ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে অভিযুক্ত আহাদের বোন—যিনি ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আওয়ামী লীগ নেতা আমিনুল ইসলাম সুজনের স্ত্রী জলি ইসলাম বলে পরিচিত—হঠাৎ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সাংবাদিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি প্রকাশ্যে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেন, অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং একাধিকবার ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালান।
এদিকে ঘটনার সময় ধারণ করা ভিডিও ফুটেজে আরও কয়েকজনের উপস্থিতি স্পষ্টভাবে দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
অন্যদিকে মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ১৬ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক ১টা ১০ মিনিটে বরিশাল নগরীর এয়ারপোর্ট থানাধীন লুথফর রহমান সড়কের ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত ‘গ্রিন হাউজ-২’ ভবনের তৃতীয় তলায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী তরুণী তার স্ট্রোক-আক্রান্ত অসুস্থ মাকে নিয়ে খালার বাসায় অবস্থান করছিলেন। সেই সুযোগে আত্মীয়তার সম্পর্কের অপব্যবহার করে অভিযুক্ত আহাদ কৌশলে তাকে নিজের কক্ষে নিয়ে যায়। সেখানে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একপর্যায়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। ভুক্তভোগীর বারবার বাধা, কান্না ও আত্মীয়তার কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার পরও অভিযুক্ত তার পাশবিক আচরণ চালিয়ে যায় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্তের পরিবার আর্থিক ও সামাজিকভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে সে ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিল। রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রবাসী আত্মীয়দের প্রভাব খাটিয়ে মামলা ধামাচাপা দেওয়ার অপচেষ্টা চলছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। আদালত চত্বরে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনাকে সেই ক্ষমতার দাপটেরই আরেকটি জ্বলন্ত উদাহরণ বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
দীর্ঘ সময় পর হলেও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় র্যাব-৮ এর ভূমিকার প্রশংসা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহল। একই সঙ্গে আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধাদানকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, ভিডিও ফুটেজে শনাক্ত সকল ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।