বরিশালের জলাবদ্ধতা নিরসনে ৩০ খাল পুনঃখনন
সিটি করপোরেশন ও শহরাঞ্চলের উন্নয়নমূলক প্রকল্পের আওতায় বরিশাল মহানগরীর দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধান এবং পরিবেশগত ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রকল্পের আওতায় নগরীর ৩০টি খাল পুনঃখনন ও সংস্কারের পাশাপাশি খালের দুই পাড় সংরক্ষণ, সৌন্দর্যবর্ধন এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার কাজ করা হবে।
এর মধ্যে ১০টি খালের দুই পাশে ওয়াকওয়ে নির্মাণ, বৃক্ষরোপণ ও নান্দনিক আলোকসজ্জার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে কীর্তনখোলা নদী থেকে খালগুলোতে জোয়ার-ভাটার পানির স্বাভাবিক চলাচল এবং পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্টদের আশা, খালগুলোর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা এবং পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক করা সম্ভব হলে নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
সংস্কার হবে ১০ পুকুর, নির্মাণ করা হবে ১৯টি ঘাটলা
প্রকল্পের আওতায় বরিশাল মহানগরীর ১০টি পুকুর ও লেক পুনঃখনন, পাড় সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ এবং টেকসই আলোকসজ্জার মাধ্যমে সৌন্দর্যবর্ধন করা হবে। সম্ভাব্য স্থানগুলোতে প্রচলিত বৈদ্যুতিক বাতির পরিবর্তে সৌরবিদ্যুৎচালিত বাতি স্থাপনের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
এ প্রকল্পের আওতায় নবগ্রাম রোডের চৌমাথা লেক, গোল পুকুর, ত্রিশ গোডাউন সংলগ্ন বধ্যভূমির পাশের পুকুর, গড়িয়ার পাড়ের ত্রিকোণ পুকুর ও আমানতগঞ্জ পুকুরসহ নগরীর গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি পুকুর সংস্কার করা হবে।
পাশাপাশি জনগুরুত্বপূর্ণ পুকুরগুলোতে বাংলার ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নির্মাণ করা হবে ১৯টি নান্দনিক ঘাটলা। এসব ঘাটলা নির্মাণের মাধ্যমে পুকুরগুলোকে জনসাধারণের ব্যবহার উপযোগী করে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী মো. হুমায়ুন কবির এ তথ্য জানিয়েছেন।
নগরীতে নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণ হবে ৫৭ কিলোমিটার ড্রেন
বরিশাল মহানগরীর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা আধুনিক ও কার্যকর করতে প্রকল্পের আওতায় ৫৭ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি বিদ্যমান ড্রেনেজ ব্যবস্থার সংস্কারও করা হবে।
সংশ্লিষ্টদের আশা, খাল পুনঃখনন, পুকুর সংস্কার এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নকাজ সম্পন্ন হলে বরিশাল নগরীর পানি নিষ্কাশনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে। এতে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা কমার পাশাপাশি নগরীর পরিবেশ ও সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে।
বরিশাল নগর উন্নয়নে আগের প্রকল্পগুলোর ধারাবাহিকতা
২০০২ সালে বরিশাল সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠার পর ২০০৫-০৬ অর্থবছরে নগরীর অবকাঠামো উন্নয়নে ২০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। পরবর্তী সময়ে ২০২৩ সালের নভেম্বরে ৭৮০ কোটি টাকার আরেকটি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদিত হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় নতুন ৭৩০ কোটি টাকার প্রকল্পটি বরিশাল মহানগরীর অবকাঠামো, পরিবেশ ও জলাবদ্ধতা নিরসনে অন্যতম বৃহৎ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রকল্প অনুমোদনে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানালেন নগর প্রশাসক
বরিশাল মহানগরীর উন্নয়নে ৭৩০ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের নগর প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন।
নগর প্রশাসক বলেন, “আমরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে কৃতজ্ঞ, তিনি বরিশাল মহানগরীর উন্নয়নে এ প্রকল্পটি অনুমোদন দিয়েছেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বরিশাল জেলাকে নিজের জেলা মনে করতেন। তাঁর যোগ্য উত্তরসূরি বেগম খালেদা জিয়াও বরিশালের উন্নয়নে আন্তরিক ছিলেন। তাঁর হাত ধরেই বরিশাল বিভাগ, বরিশাল সিটি করপোরেশন ও বিমানবন্দর প্রতিষ্ঠাসহ দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছিল।”
তিনি আরও বলেন, জিয়া পরিবারের আরেক সুযোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বরিশালের উন্নয়নে তাঁর আন্তরিকতার স্বাক্ষর রাখলেন। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বরিশালের নগরজীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে বরিশালে আমন্ত্রণ জানানোর আগ্রহও প্রকাশ করেন তিনি।
অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান সরকারের মেয়াদে বরিশাল মহানগরীসহ সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে আরও ব্যাপক অগ্রগতি সাধিত হবে।
বরিশালের নগর উন্নয়নে কী কী কাজ হবে?
- ৩০টি খাল পুনঃখনন ও সংস্কার।
- ১০টি পুকুর ও লেক পুনঃখনন ও সৌন্দর্যবর্ধন।
- ১৯টি নান্দনিক ঘাটলা নির্মাণ।
- ৫৭ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণ।
- ১০টি খালের দুই পাশে ওয়াকওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা।
- খালের পাড় সংরক্ষণ ও বৃক্ষরোপণ।
- সৌরবিদ্যুৎচালিত আলোকসজ্জার উদ্যোগ।
- কীর্তনখোলা নদীর সঙ্গে খালগুলোর পানিপ্রবাহ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়ন।
বরিশালকে জলাবদ্ধতামুক্ত, পরিবেশবান্ধব ও নান্দনিক নগর হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বরিশাল সংবাদ | Barisal Sangbad