নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: বরিশাল অঞ্চলের সরকারি হাসপাতালগুলোতে হাম ও ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে রোগী ভর্তির সংখ্যা প্রায় ৪৫ হাজারে পৌঁছেছে। এসব রোগ ও উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এ পর্যন্ত ১৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সদ্য সমাপ্ত অক্টোবর মাসে ভর্তি হয়েছেন প্রায় ১০ হাজার রোগী। এ সময়ে মৃত্যু হয়েছে ১৪ জনের।
স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বরিশাল অঞ্চলের সরকারি হাসপাতালগুলোতে হাম-সদৃশ উপসর্গ নিয়ে প্রায় ২৬ হাজার শিশু ভর্তি হয়েছে। তবে তাদের মধ্যে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে প্রায় ৭৪৩ শিশুর। উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ৭৩ শিশুর মধ্যে নিশ্চিত হাম আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছে তিনজন।
অক্টোবর মাসে হাম-সদৃশ উপসর্গ নিয়ে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে প্রায় সাড়ে তিন হাজার শিশু। এ সময়ে মারা গেছে তিনজন। এর আগের মাস সেপ্টেম্বরে এ ধরনের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছিল প্রায় পাঁচ হাজার শিশু এবং মৃত্যু হয়েছিল ১৬ জনের।
তবে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর সংখ্যা কমে আসাকে হাম পরিস্থিতির উন্নতি হিসেবে দেখছেন না কোনো কোনো চিকিৎসক। তাঁদের মতে, সংকটাপন্ন অবস্থা ছাড়া অনেক রোগী সরকারি হাসপাতালে আসছেন না। বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ সরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ এত বেশি যে মেঝেতেও নতুন রোগী রাখার জায়গা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে, ডেঙ্গু পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। অক্টোবর মাসে বরিশাল অঞ্চলের সরকারি হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু নিয়ে ভর্তি হয়েছে ৬ হাজার ১৮৫ জন। সেপ্টেম্বরে এ সংখ্যা ছিল ৫ হাজার ৭৭ জন। অর্থাৎ এক মাসে ভর্তি বেড়েছে ১ হাজার ১০৮ জন। অক্টোবর মাসে ডেঙ্গুতে মারা গেছে ১১ জন। সেপ্টেম্বরে এ রোগে মৃত্যু হয়েছিল নয়জনের।
এ পর্যন্ত বরিশাল অঞ্চলের সরকারি হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গুতে ২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ২৫ জনই মারা গেছে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। একই হাসপাতালে হাম-সদৃশ উপসর্গ নিয়ে প্রায় আট হাজার শিশু ভর্তি হয়েছে এবং মারা গেছে ৫৮ জন।
তবে স্বাস্থ্য বিভাগ নিশ্চিত হাম আক্রান্ত হিসেবে যে তিন শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে, তাদের সবাই বরগুনা হাসপাতালে মারা গেছে।
বরিশাল সিটি করপোরেশনসহ অঞ্চলের ২৪টি পৌরসভায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও জনসচেতনতামূলক উদ্যোগ নেওয়া হলেও ডেঙ্গুর বিস্তার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বরিশাল মহানগরীর কিছু এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম দৃশ্যমান থাকলেও বিভিন্ন স্থানে ঝোপঝাড় ও অপরিচ্ছন্ন ড্রেনে এডিস মশার বংশবিস্তারের সুযোগ রয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যানে আরও দেখা যাচ্ছে, শহরাঞ্চলের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি। এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করার পরামর্শ দিয়ে আসছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
হেড অফিস: ৩৯ দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা।
মোবাইল : ০১৭৪২-২৮০৪৯৮, মেইল: dailybarishalsangbad@gmail.com
© 2026 বরিশাল সংবাদ | Barisal Sangbad